বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীর আর নেই

সুজন পোদ্দার : প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক, শিল্প-সাহিত্য সমালোচক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য, একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীর (৮৪) বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)।

সোমবার বাদ মাগরিব জানাযা শেষে তার কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে স্ত্রী নুজহাত খান জাহাঙ্গীরের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র ছেলে নাদিম জাহাঙ্গীরসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে যান। তিনি চাঁদপুর জেলার প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট আশেক আলী খান পন্ডিতের দ্বিতীয় পুত্র। আশেক আলী খানের চার পুত্র ও এক কন্যা। তন্মধ্যে বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীরসহ তিন পুত্র মারা গেছেন।

পুত্রদের মধ্যে এখন শুধু বেঁচে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি (তৃতীয় পুত্র)। কন্যা নীলুফা বেগম অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব। বড় পুত্র মরহুম মিজবাহ্ উদ্দীন খান ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ছোট পুত্র মরহুম ড. শামসুল আরেফিন খান হেলাল উদ্দীন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নৃ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক।

ন্যায়-নিষ্ঠাবান ও মুক্ত চিন্তার অধিকারী হিসেবে পরিচিত ড. বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে তার জন্মস্থান কচুয়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

মরহুম ড. বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন আলমগীর এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, তার ভাতিজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর উদ্দিন খান মামুন, কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ূব আলী পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা ইমাম হোসেন মেহেদী, পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুম ড. বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীর ১৯৩৬ সালের ৯ জানুয়ারি কচুয়ার গোলবাহার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে এই বিভাগের অধ্যাপক হন। অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেছেন। ছোটগল্পে অবদানের জন্য ১৯৬৯ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য ২০০৯ সালে একুশে পদক পান।

শেয়ার করুন