স্পেনে করোনায় ১ বাংলাদেশীর মৃত্যু, অর্ধশত আক্রান্তের মধ্যে চাঁদপুরের ২জন

চাঁদপুরের ষাটোর্ধ্ব নারী আইসোলেশনে, ৩০ বছর বয়সী যুবক হোম কোয়ারেন্টাইনে

মিরন নাজমুল, স্পেন থেকে :
স্পেনে ১৭টি প্রদেশের মধ্যে সবগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল শহর রাজধানী মাদ্রিদ ও কাতালোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষ কভিড১৯ এ আক্রান্ত এবং এই দুই শহরে মৃতের সংখ্যা সর্বোচ্চ। স্পেনে বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশীর প্রায় ৯৫ ভাগই এই দুই শহরে বসবাস করে। দেশটির জরুরী অবস্থার কারণে প্রায় বেশির ভাগ বাংলাদেশীই চাকুরি হারিয়েছে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে। তবে স্পেন সরকার দেশটির অর্থনৈতিক ধাক্কায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে ইতোমধ্যে ২ লক্ষ মিলিয়ন অর্থ বরাদ্দ করেছে সবাইকে সহযোগিতা করার জন্যে।

সর্বশেষ খবর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা শহর মিলিয়ে প্রায় ৫০জন বাংলাদেশী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের মধ্যে মাদ্রিদে একজন মৃত্যুবরণ করেছে। তার বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি স্পেন সরকার। এছাড়া একাধিক সংখ্যক বাংলাদেশী এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে। করোনায়া আক্রান্তদের মধ্যে চাঁদপুরের ২জন রয়েছেন। এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব এ্কজন নারী আইসোলেশনে ভর্তি আছেন। এছাড়া ৩০ বয়সী এক যুবক গত ১০ দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। বর্তমান তার অবস্থা উন্নতির দিকে।


বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসে স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। দেশটি এই মহামারির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়েও থামাতে পারছেনা মৃত্যুর মিছিল। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৬৯জনে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৫ হাজার। বিগত ৭ দিনে দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছে ৮৫০জন।

সারাদেশ জুড়ে স্টেট অব এলার্ট জারির পরে মানুষকে ঘরে বন্দি রেখেও মহামারিকে ঠেকাতে পারছেনা দেশটির সরকার। উল্টো শতকরা ৩৫ ভাগ ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থকর্মী করোনাভাইরে আ্ক্রান্ত হয়ে পড়েছে। যার কারণে সামনে আরো কঠিন সময়ে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


হাসপাতালগুলোর জরুরী বিভাগ ও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রোগীর ভীড়ে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। আইসিউতে স্থান সঙ্কুলন না হওয়ার কারণে দেশটির স্বাস্থ্যবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে তুলনামূলক কম বয়সের ব্যক্তিদের শুধু আইসিউতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আর বয়সে যারা প্রবীণ ষাটোর্ধ তাদের আইসিউতে স্থান হচ্ছে না। সাধারণ বেডেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুবরণ করছে।


গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দেশটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ফেব্রুয়ারী মাসের ১৫ তারিখ থেকে মার্চের ৬ তারিখ পর্যন্ত এই তিন সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৪০১ জন। কিন্তু পরে তিন সপ্তাহে সেই সংখ্যা বেড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দায়িড়েছিলো ৭৫ হাজারে। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে লক্ষ ছুই ছুই করছে। চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে সারা দেশে লকডাউনসহ রাষ্ট্রিয় জরুরী অবস্থা জারী করে কার্যত তেমন সুফল পায়নি দেশটি। ৪ কোটি ৭০ লক্ষ অধিবাসীর দেশটি এখন মূলত অবরুদ্ধ হয়ে আছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। দেশটির মোট জন সংখ্যার প্রতি ১০ লক্ষে ২০১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং প্রতি ১০ লক্ষে ১৭৭জন মৃত্যুবরণ করছে। ইউরোপের পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ স্পেন এখন পর্যটনশূণ্য। প্রসিদ্ধ শহরগুলোর রাস্তাঘাট জন-মানুষ শূণ্য। মানুষজন শুধু জরুরী প্রথমিক চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্যসামগ্রি ও ওষুধ কেনার জন্য ঘর থেকে বের হতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন