Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটি ছাড়াই চলছে চাঁদপুর আদর্শ হোমিওপ্যাথি কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর আদর্শ হোমিওপ্যাথি কলেজ ও হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী অধ্যক্ষ ও বৈধ পরিচালনা কমিটি ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কয়েক বছর ধরে আর্থিক অডিট না হওয়া, প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলেজটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাহার আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগগুলোর কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে কলেজটির কোনো নিয়মিত কিংবা অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক অডিট হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে অডিট না হওয়ায় কলেজ ও হাসপাতালের আয়-ব্যয়, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক অডিট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম যাচাই করা প্রয়োজন।
কলেজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষ করে মাস্টার্স ডিগ্রিসহ প্রয়োজনীয় শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নেতৃত্বের সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে একাডেমিক পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁদের মতে, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে।
শিক্ষকদের দাবি, কলেজে এমন একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সম্পর্কে অভিজ্ঞ। মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাঁদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে শিক্ষকদের মধ্যে আস্থা বাড়বে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির হারানো ঐতিহ্য ও সুনাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা কমিটি না থাকা এবং স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়ায় কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত একটি বৈধ পরিচালনা কমিটি গঠন, যোগ্য অধ্যক্ষ নিয়োগ, দীর্ঘদিনের আর্থিক অডিট সম্পন্ন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক সংকট নিরসন করা জরুরি।
এ বিষয়ে তাঁরা চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে প্রতিষ্ঠানটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (শিক্ষা) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ বলেন, শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা আছে। পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট বোর্ডে চিঠি পাঠিয়েছি। অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাহার আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দ্রুত প্রশাসনিক সংকটের অবসান, আর্থিক অডিট, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করা না গেলে জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও সেবার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Exit mobile version