বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতি সম্প্রতি চাঁদপুর সফরকালে যেসব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেগুলোর বাস্তবায়নে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তার সফরের মাত্র দুই দিন পর চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরকারি উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে হাইমচরের মধ্যচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নেও কাজ শুরু হয়েছে। চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রস্তাবক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি। আজ শুক্রবার ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফর করেন। ওইদিন বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুরের যে কোনো স্থানে ইপিজেড স্থাপন এবং হাইমচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তার দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে ইপিজেড স্থাপনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিডার চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনার দুই দিন পর ১৮ মে চাঁদপুরে ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ হয়েছে, যার স্মারক নং০৩.০৬.২৬১৬.৩০৭.০৬.০০১.২৫-১২৫৯ তারিখ : ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩/১৮ মে ২০২৬।
এ অফিস আদেশে লিখা হয়েছে, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মৌজা কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করার নিমিত্ত নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিম্নরূপভাবে কমিটি গঠন করা হলো। আহ্বায়ক : সদস্য (প্রকৌশল), বেপজা, ঢাকা; সদস্য সচিব, প্রকল্প পরিচালক, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই। সদস্যবৃন্দ : অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (কমার্শিয়াল অপারেশন), কুমিল্লা ইপিজেড; অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন)-১, বেপজা, ঢাকা; অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (রক্ষণাবেক্ষণ), বেপজা, ঢাকা; পরিচালক (হিসাব)-১, বেপজা, ঢাকা; পরিচালক (প্রশাসন)-২, বেপজা, ঢাকা; এসএম সাইফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী (পুর), ঢাকা ইপিজেড; মো. মনিরুল ইসলাম, সিনিয়র ড্রাফটসম্যান, বেপজা।
অফিস আদেশে কমিটির কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে : কমিটি চাঁদপুর জেলায় একটি নূতন ইপিজেড স্থাপনের বিষয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা (ইকোনমিক ফিজিবিলিটি) এবং কারিগরি উপযোগিতা পর্যালোচনার উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনসহ এ ব্যাপারে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক আগামী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নির্বাহী চেয়ারম্যান, বেপজা বরাবর দাখিল করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন ঢাকার ধানমন্ডীস্থ বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস এ অফিস আদেশটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর থেকে যাওয়ার দুই দিন পর চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কমিটি গঠিত হওয়ায় বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় এমপিকে বিপুল অভিনন্দন জ্ঞাপন করা হয়। চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা ও প্রস্তাব করায় জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে হাইমচরের মধ্যচরে অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নেও কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মধ্যচরের অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুনভাবে কৃষি ও সৌর শিল্প স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং একই সাথে কৃষি উৎপাদনের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, কিছু লোক উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার করছে যে, হাইমচরের ইপিজেড চাঁদপুর সদরে নিয়ে আসা হচ্ছে। যা মোটেও সঠিক নয়। হাইমচরের অর্থনৈতিক অঞ্চল সেখানেই থাকছে। চাঁদপুর সদরে নতুন করে ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরের পর চাঁদপুরে ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাব্য যাচাইয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া হাইমচরের অর্থনৈতিক অঞ্চলে সোলার ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা যাওয়ার পর চাঁদপুরের উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সাথে আমার কথা হয়েছে। চাঁদপুরবাসীর জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।
