তালহা জুবায়ের/শরীফুল ইসলাম :
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চাঁদপুরে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৪জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত জেলায় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীসহ মোট ৭৭জন গ্রেফতার হয়। মঙ্গলবার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. মনিরুল ইসলাম।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে চাঁদপুর সদর, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি থানায় মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ২টি, হাজীগঞ্জে ৪টি ও শাহরাস্তি থানায় ১টি মামলা করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের নিয়মিত অভিযান থাকায় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গাঢাকা দিয়েছে। অনেকে ছেড়েছেন বাড়ি।
এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে গত ২০ জুলাই বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরসহ চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সাংবাদিকসহ ৫০জন আহত হন। এরপর শুরু হয় কারফিউ। বর্তমানে কারফিউ শিথিল থাকলে জেলা সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের তল্লাশি টিম কাজ করছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কোন শিক্ষার্থী নেই বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে আটককৃতদের মধ্যে প্রায় ২৫জনের বয়স ৩০ বছরের নিচে।
পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মোট গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪জনকে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার করা হয় ১জন। এই থানায় ১৯ ও ২০ জুলাই মোট ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৫৭ ও ৫৮।
জেলায় সবচেয়ে বেশি আসামি গ্রেফতার করা হয় হাজীগঞ্জ থানায়, ৩১জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার হয় ২জন। এই থানায় মোট ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ২০ তারিখ মামলা (নং ১৫) এবং ২১ তারিখ ৩টি মামলা (নং ১৬, ১৭, ১৮) দায়ের করা হয়।
শাহরাস্তি থানায় মোট ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ১জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া মতলব উত্তর উপজেলায় ৫জন, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৫ এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৯জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সহিংসতায় জড়িত মোট ৭৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের সকলেই বিএনপি-জামায়াতের লোক। হয়তো এদের মধ্যে কেউ কেউ পড়াশোনা করতে পারে। তবে আমরা কোন সাধারণ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করিনি।
