Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

শাহরাস্তিতে গোপনে স্ত্রীর নামে জমি লিখে দেওয়ার অভিযোগ, মুখোমুখি দুই ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের পাতিচোঁ গ্রামের মো. সাফায়েত ও বেলায়েত হোসেন আপন দুই ভাই। দুজনেই কাতার প্রবাসী। বিদেশে যাওয়ার পূর্বে বেলায়েত নিজ এলাকায় আনোয়ার উল্লা নামে ব্যাক্তির কাছ থেকে ৪৮ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বায়না করেন। তিনি বিদেশে যাওয়ার পর অপর ভাই সাফায়েত দেশে এসে সম্পত্তি সাবকবলা দলিল করেন দুই ভাইয়ের নামে। কিন্তু কয়েক বছর পার হলেও বন্টক ছাড়া বড় ভাইকে না জানিয়ে সম্পত্তির মূল্যবান অংশ গোপনে ছোট ভাই বেলায়েত তার স্ত্রীর নামে লিখে দেয়। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে এখন চরম বিরোধ। তবে বড় ভাই সাফায়েত ন্যায় বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে এবং আইনি কাগজপত্র দেখে এসব তথ্য জানাগেছে। সাফায়েত ও বেলায়েত ওই গ্রামের মো. আরব আলীর ছেলে। আরব আলীর ৭ ছেলে। এর মধ্যে সাফায়েত পঞ্চম ও বেলায়েত ষষ্ঠ ছেলে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, কর্মসংস্থানের জন্য প্রথমে প্রবাসে গিয়েছেন সাফায়েত। পরে ছোট ভাই বেলায়েতকে ওই দেশে নিয়েছেন তিনি। বেলায়েত বিদেশে যাওয়ার পূর্বে জমির মালিক আনোয়ার উল্লার সাথে ৩০ লাখ টাকায় বায়না চুক্তি করে যান। পরবর্তী ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি সাফায়েত দেশে এসে জমির সাবকবলা দলিল করেন। তবে সম্প্রতি বেলায়েত দেশে এসে চিতোষী সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে ৫৩ নং পাতিচোঁ মৌজার ৪৮ শতাংশ জমির মধ্যে তার অংশ অর্থাৎ ২৮ শতাংশ জমি (ভরাট) তার স্ত্রী শামীমা আকতারের নামে লিখে দেয়। কিন্তু তাদের যৌথ দলিলে কোথাও জমির অংশ নির্ধারণ করে লিপিবদ্ধ হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভায়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
দুই ভায়ের মধ্যে কথা হয় সেফায়েতের সাথে। তিনি মুঠোফোনে জানান, তিনি সহজ সরল মনে দুই ভাইয়ের নামে জমি ক্রয় করেছেন। রেজিষ্ট্রি করার আগে কথা ছিলো দুই ভাইয়ের নামে ২৪ শতাংশ করে রেজিষ্ট্রি হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এবং ছোট ভাই হওয়ার কারণে তিনি আপত্তি না করে ২০ শতাংশ নিজের নামে নিয়েছেন (দলিল নম্বর-৭৬/২৪)। তাদের মধ্যে কোন বিরোধ হবে না মর্মে জমির কোন চৌহদ্দি নির্ধারণ করেননি।
সেফায়েত বলেন, আমার ছোট ভায়ের চিন্তা চেতনার সাথে আমার শেষ পর্যন্ত মিলেনি। সে কাতার থেকে অসুস্থ্যতার কথা বলে দেশে এসে তার স্ত্রীর নাম গোপনে জমি লিখে দিয়েছে। এই কাজটি অন্যায় হয়েছে। কারণ রাস্তার পাশে যদি ব্যবসায়ীকভাবে মার্কেট হয়, তাহলে দুই ভায়ের জন্য ভালো উদ্যোগ। এতে সে মার্কেটের বেশি অংশ নিয়ে আমাকে কম দিলেও কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু আমার সাথে বিষয়টি প্রতারণা হয়েছে। আমাদের মধ্যে জমি বন্টক ছাড়া কিভাবে লিখে দিলো। এরপর আবার রাতের আঁধারে ওই জায়গায় ঘর তুলেছে। তার পুরো চিন্তা চেতনা উল্টো। আমি আইনির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি চাইব প্রশাসন আমাদের বিষয়টি সঠিক বিচার করে। যাতে আমাদের মধ্যে ভবিষ্যতে আরো কোন বিরোধ না হয়।
তিনি আরো বলেন, আমার ভাই প্রতারণা করার পর আমার আইনের আশ্রয় নেয়া ছাড়া আর কোন পথ ছিলো না। কারণ আমার বাবা কোন প্রদক্ষেপ নেননি। যে কারণে আমাদের নিজস্ব বিষয়গুলো সবার জানাজানি করতে হয়েছে। টাকার বিনিময়ে মামলার তদ্বির করেছে ছোট ভাই। কিন্তু আমি এখনো ন্যয়ের পক্ষে অটুট। আদালত মামলার প্রেক্ষিতে এই জমিতে কোন স্থাপনা তৈরি না করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এই বিষয়গুলো আমরা সংশ্লিষ্ট মহলে জানিয়েছি।
সেফায়েতের স্ত্রী আয়েশা বলেন, এই সম্পত্তি নিয়ে আমাদেরকে বেলায়েতের পরিবার এবং আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ী সব সময় হুমকির মধ্যে রাখে। আমরার পরিবার এখন নিরাপদ না। বেলায়েত কাতারে আমার স্বামীকে মারধর করেছে। তিনি তিনদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আমি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টদের কাছে সঠিক বিচার দাবী করি।
সাফায়েত ও বেলায়েত হোসেনের খুবই পরিচিত এবং প্রতিবেশি শফিকুল ইসলাম বলেন, তার দুই ভাই পছন্দ করে জায়গাটি কিনেছে। কিন্তু রাতের আধাঁরে এইভাবে দখল করা ঠিক হয়নি। এখন আবার তারা ওই ঘরে বিদ্যুৎ আনার চেষ্টা করছে। বেলায়েত আইনির প্রতি শ্রদ্ধাশীল না। আইন অমান্য করে প্রতিটি প্রদক্ষেপ নিচ্ছে।
বেলায়েতের স্ত্রী শামীমা আকতার বলেন, তাদের বাড়িতে ঘর নেই। যে কারণে এখানে থাকার জন্য ঘর তৈরি করেছেন। কিন্তু তাদের যৌথ সম্পত্তি এখনো ভাগ হয়নি সেটাও স্বীকার করেছেন। শামীমা বলেন, তার স্বামী তাকে যে ২৮ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছেন, তার সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে। এই বিষয়ে আইনীভাবে লড়বেন। এছাড়াও সেফায়েতের কাছ থেকে বেলায়েত ৬লাখ টাকা পাওনা আছে এটাও দাবী করেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি ও দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন মতামত দিয়ে বলেন, তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে এই বিরোধ তাদের বাবাই সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেননি। তিনি একভাবে বেলায়েত হোসেনের পক্ষ নিয়েছেন।
সাফায়েত হোসেন এর পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি ও নানাভাবে হয়রানির পর তার স্ত্রী আয়েশা শাহরাস্তি থানায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে থানার এএসআই আরিফ সরেজমিন বিষয়টি তদন্ত করেছেন।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তাদের জমির বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
Exit mobile version