Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

স্মৃতি আর অর্জনে ভরা ৩০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
তিন দশকের দীর্ঘ কর্মজীবন। অসংখ্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর স্মৃতিতে ভর করে বিদায় নিলেন গাউছিয়া হাশেমীয়া সেকান্দর আলী সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম। তাঁর সম্মানে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি যেন পরিণত হয়েছিল আবেগ, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার মিলনমেলায়।
শনিবার চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার গাউছিয়া হাশেমীয়া সেকান্দর আলী সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা এ এইচ এম কাওছার আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আরবি প্রভাষক মাওলানা মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী।
বক্তারা বলেন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম শুধু একজন অধ্যক্ষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক, সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী। তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাসাটি শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ফলাফলের ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মমিনুল হক বলেন, একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য তাঁর শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়। মাওলানা রফিকুল ইসলাম ৩০ বছর ধরে যে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা নতুনদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে।
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো এলাকার মানুষ তাঁর কর্মকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা আবেগঘন বক্তব্য দেন। তারা বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম শুধু একজন প্রশাসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক, পথপ্রদর্শক ও আদর্শ শিক্ষক।
সাবেক শিক্ষার্থী মো: কামরুল হাসান বাবু বলেন, অধ্যক্ষ স্যার আমাদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা দেননি, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দিয়েছেন। তাঁর স্নেহ, পরামর্শ ও নেতৃত্বে আমরা জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছি।
বর্তমান শিক্ষার্থী উম্মে সায়মা বলেন, স্যারের দরজা সবসময় আমাদের জন্য খোলা ছিল। যেকোনো সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে গেলে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করতেন। তাঁর অবদান আমরা কখনো ভুলব না।
সংবর্ধিত অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, এই মাদ্রাসাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঠিকানা। ৩০ বছরের পথচলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনো ভুলতে পারব না। আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক আজীবন থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অনেককেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মময় জীবনের ইতি টানলেও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের অবদান ও স্মৃতি মাদ্রাসা পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
Exit mobile version