Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ : গর্ভবতী শিক্ষিকার ওপর হামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাসলিমা সুলতানা নামে ওই শিক্ষিকা। তিনি এক মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। হামলার সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত শিক্ষিকাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তান নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের ফজল বেপারী বাড়ির একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ওই জমি নিয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি বণ্টন মামলা নং ২৪৪৫/২৬ এবং অগ্রক্রয় মামলা নং ২৭৬১/২৬ চলমান রয়েছে। গত ২৩ জুলাই দেওয়ানি বণ্টন মামলার শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে গত ২১ আগস্ট রাতে মাসুদ মমিন গং বিপুলসংখ্যক লোকজন ও নির্মাণশ্রমিক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও পুলিশের উপস্থিতির পর তারা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।

মামলার এজাহার ও শিক্ষিকার বক্তব্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে কয়েকশ লোকজন নিয়ে সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ সময় তাসলিমা সুলতানা ও তাঁর ননদ সুরমা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের নাক-মুখে আঘাত করা হয় এবং ঘর থেকে বের হলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতি দেখে রাতেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান তাসলিমা। পরে এসআই মো. সফিকুল ইসলাম, এসআই নুরুল আলমসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

শিক্ষিকার অভিযোগ, ভোরের দিকে বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তিনি নিজ বসতঘরের ছাদে ওঠেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী-কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একটি ভারী ইট তাঁর শরীরে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন উপপরিদর্শক তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তাসলিমা সুলতানার অভিযোগ, ঘটনার পেছনে এডভোকেট আব্দুল হান্নান গং পরিবারের সদস্য, আলমগীর হোসেন রাজা, সোহেলসহ কয়েকজন জড়িত। ঘটনার পরও তাঁদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, আমি একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বর্তমানে এক মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নিজের বাড়িতে থেকেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলার ঘটনায় আমি এবং আমার গর্ভস্থ সন্তান দুজনই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমিতে নির্মাণকাজ ও হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত শিক্ষিকাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে গর্ভবতী একজন নারী ও শিক্ষিকার ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষক সমাজের অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Exit mobile version