Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জিম্মি পাউবো!

শাস্তিমূলক বদলী বাতিল করে এবার পুরস্কারস্বরূপ ঢাকায় বদলী!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চাঁদপুরস্থ মেঘনা-ধনাগোদা বিভাগের এখলাসপুর পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম। তার অঢেল টাকা ও অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুলনায় হওয়া বদলী বাতিল করে ঢাকাস্থ ডিজাইন সার্কেল-৪ এ বদলীর আদেশ করাতে সক্ষম হয়েছেন। একে ‘শাস্তিমূলক বদলী’র পরিবর্তে ‘পুরস্কারস্বরূপ বদলী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সেচ প্রকল্প এলাকার লোকজন চরম বিস্ময় ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত এই মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট এবং গ্রামে বিস্তৃত সম্পদের মালিক। একই সঙ্গে তিনি চাঁদপুরের প্রয়াত বালু ব্যবসায়ী সেলিম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘসময় ধরে চাঁদপুর পাউবো নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, যা প্রায় ৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেষ্টিত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প, সেখানে স¤প্রতি প্রায় ৮ কোটি টাকার ফেরোসিমেন্ট লাইনিং কাজ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এন্ড কোং’ কাজ পেলেও কাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় যে কোনো সময় তা ভেস্তে যেতে পারে।
স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বালু ও সিমেন্টের অনুপাত কাজের নির্দেশনার সঙ্গে বাস্তবে মিলছে না এবং নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত নিয়মে দুই স্তরের তারের জাল ব্যবহার না করে এক স্তরে কাজ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্মাণের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া কাজের সময় পাউবোর কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে অন্য একটি পক্ষ কাজ পরিচালনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এতে জড়িত থাকতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একই প্রকল্প এলাকায় ১৪টি ইমারজেন্সি কাজের ঠিকাদারী নিয়েছেন জাহাঙ্গীর হোসেন। যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। একই স্থানে বছরের পর বছর জরুরি কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনে সিদ্ধ হস্ত জাহাঙ্গীর হোসেন। কোনো একজন ঠিকাদারের নামে কাজ দেখিয়ে জাহাঙ্গীর সিন্ডিকেট মুনাফা লুটছে, যা বেআইনী। এর সাথে স্থানীয় পাউবো’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত থাকায় কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী কৃষকরা। উল্টো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাহাঙ্গীর সিন্ডিকেটকে শেল্টার দিচ্ছে।

এ বিষয়ে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটির দায় অস্বীকার করেছেন এবং কাজটির অনুমোদন বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এতে পুরো বিষয়টি ঘিরে আরও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনা প্রকাশের পর চলতি মাসে ৮ এপ্রিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে বদলি করা হলেও ৭ দিনের মধ্যেই সেই আদেশ পরিবর্তন করা হয় বলে জানা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সর্বশেষ তাকে ঢাকায় ডিজাইন সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে উল্লেখিত কাজের টেন্ডার থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রকল্প এলাকার জনগণ।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঠিকাদারি কাজের সাথে আমি কোনোভাবে জড়িত নই। আমার বদলির সাথেও ওই কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

Exit mobile version