Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম অফিস করেন না!

বিশেষ প্রতিবেদক :
হাজীগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলামকে তার সরকারি অফিসে পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী জনগণ ও ঠিকাদাররা। ভুক্তভোগীরা জানান, এই প্রকৌশলী নিয়মিত অফিস করেন না! সপ্তাহে এক-দুই দিন অল্প সময়ের জন্য অফিসে আসেন তিনি। বাকী সময় ঢাকা কিংবা লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করেন তিনি। তিনি নিজে সাংবাদিকের কাছে দাবি করেন, সপ্তাহে তিন দিনের মতো অফিসে থাকেন তিনি! বাস্তবে তিন দিনও অফিস করেন না তিনি। এতে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম ইতিপূর্বে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদে কর্মরত ছিলেন। সেখানে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখানে সরকারি কাজ ঠিকমতো তদারকি না করা, কাজ শেষ না হওয়ার আগে বিল দেওয়া, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বহু অভিযোগ ছিল সেখানকার মানুষের। এ কারণে তাকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়।

হাজীগঞ্জ বদলী হওয়ার পর তিনি আরো বেপরোয়া হঠে উঠেছেন। কর্তৃপক্ষের উপর জিদ করে নিয়মিত অফিস করেন না তিনি। মাঝেমধ্যে মন চাইলে কিছু সময়ের জন্য অফিসে আসেন তিনি। জরুরী কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করতে হলে অফিসের লোকজন ফাইল নিয়ে তার কাছে লক্ষ্মীপুর বা ঢাকা ছুটে যেতে হয়। নিজের অনুপস্থিতি এড়াতে উপজেলা পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইটে নিজের ছবিটি এখন পর্যন্ত সংযুক্ত করেননি তিনি। আগের কর্মস্থলের মতো এখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই প্রতিবেদক গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন তারিখে ৪টি কর্মদিবসে যেয়ে একদিনও তাকে অফিসে পাননি। তার অবস্থান ও আসা-যাওয়ার সময় সম্পর্কে অফিসের অন্যরাও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দিনভর তার অফিসে অবস্থান করেও তাকে অফিসে আসতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ তিনি কবে অফিসে এসেছেন তাও মনে করতে পারেননি তার সহকর্মীরা! জানা গেছে, তার পরিবার লক্ষ্মীপুরে থাকে। এ কারণে তিনিও সেখানেই থাকেন বেশি। আবার ঘনঘন ঢাকায় যান ভালো পোস্টিং পেতে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হলে প্রকৌশলী কাজী কামরুল ইসলাম চাঁদপুর প্রবাহকে বলেন, নিয়মিত অফিসে না থাকলেও কাজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ঠিকমতো জুন ক্লোজিং হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, সপ্তাহে প্রায় ৩ দিন তিনি অফিসে থাকেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ও অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেন তিনি। মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস বা কর্মস্থলে থাকা এবং স্বপরিবারে কর্মএলাকায় অবস্থান করার সরকারি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে রোববার (আজ ৫ জুলাই) অফিসে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো এবং তিনি যাতে নিয়মিত অফিস করেন সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

Exit mobile version