- হাসান মাহমুদ
‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ এই শ্লোগানে চাঁদপুরে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে।
১৮ এপ্রিল শনিবার দুপুর ১২টায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁদপুর মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাংসদ শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
এ সময় তিনি বক্তব্যে বলেন, আজকে এখানে তোমরা যারা ছাত্রছাত্রী উপস্থিত আছো, তোমরা কিন্তু আজকে স্কুল ও সরকার থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছো, আমাদের বয়সী যারা আছেন, আমরা কিন্তু সত্যিকার অর্থে বইয়ের বাইরে আর কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি। আমি জানতে পেরেছি ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উপর একটি উন্নতমানের ল্যাবটরি আছে, আমি চাই যে এই ল্যাবরেটরিটি যেন চাঁদপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ভীষণ উপকৃত হবে। আমার মনে হয় না ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞানভিত্তিক যে উন্নত মানের ল্যাবরেটরি রয়েছে তা চাঁদপুর শহরের আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। তবে আমার যদি কোথাও বলার সুযোগ হয় তবে আমি বলবো চাঁদপুরের সকল সরকারি হাই স্কুল ও কলেজগুলোতে উন্নত মানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, আমার সামনে আজ যে সকল শিক্ষার্থীরা বসে আছো তাদের কিন্তু একটাই স্বপ্ন, শিক্ষা শেষ করে কর্মস্থলে যাওয়া। তোমাদের বাবা মা যে কষ্ট করছে তোমাদের জন্য, তাদের স্বপ্ন পূরণেও এ বিজ্ঞান মেলা ভূমিকা রাখবে। আজকে যে বিজ্ঞান মেলা হচ্ছে, এটাও কিন্তু শিক্ষার বড় একটা জায়গা এবং এটাকে তোমরা যদি সঠিক ব্যবহার করো, তবে আগামীতে তোমরা সফল হবে এবং ভবিষ্যতের চাঁদপুরের জন্য কাজ করবে।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ছাড়া একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে যে সুপ্ত প্রতিভা রয়েছে, এই মেলার মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তাদের ছোট ছোট উদ্ভাবনই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে। এ সময় তিনি উক্ত আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিয়া নূর।
আলোচনার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল্লাহ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবলী সাদিক।
উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিগণ মেলার সকল স্টল ঘুরে দেখেন এবং ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের সাথে তাদের উদ্ভাবনের বিষয়ে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের মডেল মেলায় উপস্থাপন করেন। স্টলগুলো পরিদর্শনের সময় প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
মেলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তাদের নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলোকে হাতে-কলমে শিখতে সাহায্য করে। মেলাটি কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান বিনিময়ের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছেন যে, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার যে প্রতিফলন ঘটেছে, তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, চাঁদপুরের সকল উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের উদ্ভাবিত প্রজেক্ট নিয়ে স্টল সাজিয়েছেন। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং রোবটিক্স সংক্রান্ত প্রজেক্টগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আজ ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
