Site icon Chandpur Probaha | চাঁদপুর প্রবাহ

চাঁদপুর জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ : জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম

বিশেষ প্রতিবেদক :
চাঁদপুর জেলা পরিষদে যে কোনো সময় প্রশাসক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে দেশের ৪২টি জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুরসহ বাকী জেলাগুলোতে খুব সহসা প্রশাসক নিয়োগ হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এই পদে সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন নেতা আগ্রহী হলেও জনপ্রিয়তায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম।

তার পুরো নাম অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্লাহ সেলিম। জেলা বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই সফল নেতা। একজন সক্রিয় আইনজীবীর পাশাপাশি রাজনীতি ও সামাজিক কাজে সুদীর্ঘকাল ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দলের দুঃসময়ে অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন কারা নির্যাতিত এই নেতা।

অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিমের ফরিদগঞ্জে জন্মগ্রহণ ও শৈশব কাটিয়েছেন। পড়াশোনা শেষে আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে চাঁদপুর জেলা শহরে তাঁর স্থায়ী বসবাস। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন ২০২২ সাল থেকে। এখনো এই দায়িত্ব পালন করছেন দক্ষতার সাথে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। চাঁদপুর জেলা সদর (চাঁদপুর-৩) আসনে দলীয় প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবেও গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশকে বাম রাজনীতি দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি তাঁর রাজনীতির বাঁক পরিবর্তন করেন। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ‘জাগো ছাত্রদলের’ চাঁদপুর মহকুমা শাখার ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দিয়ে শুরু তাঁর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি।

এরপর ধারাবাহিকভাবে জাতীয়তাবাদের আদর্শের সংগঠন ছাত্রদল, যুবদলের জেলার দায়িত্ব, বিএনপি চাঁদপুর পৌর শাখার এবং সর্বশেষ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন ২০২২ সাল থেকে। ২০২২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এর আগে তিনি ধারাবাহিকভাবে ১৯৭৯ সালে চাঁদপুর মহকুমা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, ১৯৮৩ সালে চাঁদপুর মহকুমা যুবদলের আহ্বায়ক, ১৯৮৫ সালে চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি, একই সাথে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, ১৯৯২ সালে চাঁদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ২০০২ সালে পুনরায় চাঁদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ২০০৯ সালে চাঁদপুর জেলা বিএনপির ৪নং যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০১০ সালে চাঁদপুর পৌর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি হন।

তিনি ২০১৩ সালে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হন। ২০১৪ সালে জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০২২ সালে প্রত্যক্ষ নির্বাচনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় এবং বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম দলের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানান, দলের দুঃসময়ে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় তিনি দলের জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সাথে সমন্বয় করে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছেন। আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। মামলা-হামলা, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারপরও দলের নেতা-কর্মীদের ছেড়ে যাননি। কারাবরণ করে আপোষ করেননি।

তারা আরো বলেন, দল দুইবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলেও তিনি তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা নেননি। দলের জন্য, দেশের জন্য সব সময় তিনি অসামান্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে তিনি দলের প্রার্থীর পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে দলের কাছে এবং সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

সার্বিক বিবেচনায় চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম দলের একজন পরীক্ষিত ত্যাগী নেতা। তাই চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং পরবর্তীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিমকে দেখতে চান। তারা মনে করেন, এই মুহূর্তে দলে তার চেয়ে যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতা আর কেউ নেই। তাই তাঁকে মূল্যায়ন করার এখনই সেরা সময়।

 

Exit mobile version