নিজস্ব প্রতিবেদক
হাইমচর উপজেলায় এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ওমর ফারুক (২২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, ওমর ফারুককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক উপজেলার উত্তর চরভাঙ্গা এলাকার খালেক ঢালীর ছেলে। তিনি তার নানা হাসমত উল্যাহ মৃধার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
দুপুরে এজমালি পুকুরের ঘাটলা নির্মাণকে কেন্দ্র করে হাসমত উল্যাহ মৃধার পরিবারের সঙ্গে একই বাড়ির কুদ্দুস মৃধা, বিল্লাল মৃধা, হাসান মৃধা ও হাবিব মৃধাসহ কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বৃদ্ধ হাসমত উল্যাহকে মারধর করতে উদ্যত হলে নাতি ওমর ফারুক বিরোধ মীমাংসার জন্য এগিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ওমর ফারুক ও তার স্বজনদের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়লে হামলাকারীদের একজন ধারালো দা দিয়ে ওমর ফারুকের গলায় কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহতের বাবা আব্দুল খালেক ঢালী বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে হাইমচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
