নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপের মধ্যে ৩.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ওপেক্স সোলার প্রজেক্ট নামে একটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও হলসমূহের রুপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হবে যা আগামী চার মাসের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
সোমবার সাভারের রিুলিয়ায় ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস আয়োজিত পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্যারামাউন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাফেডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, কোষাধ্যক্ষ ড. হামিদুল হক খান এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) জাহিদুল আবেদীন ও কোম্পানী সেক্রেটারী রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদাব হোসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম সাছুল আলমের নেতৃত্বে এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের দিকনির্দেশনায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপের মধ্যে একটি কার্যকর ও টেকসই অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ওপেক্স মডেলের আওতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৭ টাকা নির্ধারিত হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ স্থিতিশীল থাকবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে, যা প্রায় ৬০ হাজার গাছ রোপণের সমতুল্য। পাশাপাশি, এতে কোনো পানি ব্যবহার বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন না হওয়ায় এটি একটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নেট মিটারিং সুবিধার মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ থাকবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় আরও কমাতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি বৃহত্তম এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যারযের মধ্যে প্রথম গৃহীত এই উদ্যোগটি কেবল একটি চুক্তি নয়; বরং একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার পথে একটি গুরুত্বত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
