নীতি-নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে (টিভিইটি বা ঞঠঊঞ) কেবল একটি গৌণ বা বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে না দেখে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় উন্নয়নের মূলধারার পথ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আজ ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকার সোবহানবাগে ড্যাফোডিল প্লাজায় ৭১ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ এই আহ্বান জানানো হয়। ‘বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরাম’ আয়োজিত এবং ‘ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ ও ‘সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন, এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি (যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এই উচ্চ-পর্যায়ের সংলাপে নীতি-নির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি সংস্থা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, নিয়োগকর্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়েছিলেন। তাঁরা আলোচনা করেন যে, কীভাবে বাংলাদেশ তার বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ, কর্মসংস্থান-উপযোগী এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো: দাউদ মিয়া, এনডিসি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো: আক্কাস আলী, ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (অঝঝঊঞ) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং শিল্পখাত ও টিভিইটি (ঞঠঊঞ) প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। ‘ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ এর অধ্যক্ষ তেএম হাসান রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিসিএন ফ্যামিলি ও সিসিএন পলিকেনিক ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ড্যাফোডিল পরিবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
বাংলাদেশকে তার জনমিতিক সুবিধাকে দক্ষতাজনিত সুবিধায় রূপান্তর করতে হবে:
আলোচনা থেকে উঠে আসা একটি মূল বার্তা হলো -বাংলাদেশের বিশাল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এক বিশাল সম্ভাবনার উৎস হলেও, কেবল জনসংখ্যার উপস্থিতিই ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ (ফবসড়মৎধঢ়যরপ ফরারফবহফ) নিশ্চিত করতে পারে না।
অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন যে, শিল্পখাত, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং পরিবর্তনশীল দেশি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনমিতিক সুবিধাকে দক্ষতা জনিত সুবিধায় রূপান্তর করতে দেশের একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রয়োজন।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, শিক্ষাকে ক্রমশ কর্মসংস্থানযোগ্যতা, উৎপাদনশীলতা, উদ্যোক্তা-মনোভাব এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সাথে সংযুক্ত করা উচিত; এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সাফল্য শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিতে স্নাতকদের কার্যকর অবদান রাখার সক্ষমতার মাধ্যমেই প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
টিভিইটি (ঞঠঊঞ) বিষয়ক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন:
আলোচনাটিতে চিহ্নিত করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা টিভিইটি (ঞঠঊঞ)-এর প্রসারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হলো এ বিষয়ে বিদ্যমান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
আলোচকরা উল্লেখ করেন যে, শ্রমবাজারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতার চাহিদা ও সুযোগ বেশি থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সাফল্যের জন্য প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।
তাই বক্তারা কারিগরি পেশার মর্যাদা, আকর্ষণ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ধারাবাহিক জাতীয় সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা পরামর্শ দেন যে, টিভিইটি গ্র্যাজুয়েট, টেকনিশিয়ান, দক্ষ পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্পগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা উচিত; যাতে তরুণরা ও তাদের পরিবার কারিগরি শিক্ষাকে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশাগত পথ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শিল্পের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগস্থাপন জরুরি:
এই সংলাপের আরেকটি প্রধান সুপারিশ ছিল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা।
অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন যে, নিয়োগকর্তাদের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, দক্ষতার মান, মূল্যায়ন এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করা উচিত, যাতে স্নাতকদের কর্মক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকে।
এই সংলাপে শিক্ষানবিশি, ইন্টার্নশিপ, কর্মক্ষেত্র-ভিত্তিক শিক্ষা, শিল্প সনদ, যোগ্যতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং পাঠ্যক্রমের ক্রমাগত আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করা হয়।
বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন এবং অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের যোগ্যতা উভয়ই ক্রমাগত হালনাগাদ করতে হবে।
সনদ থেকে দক্ষতার দিকে উত্তরণ :
আলোচকরা কেবল সনদ ও ডিপ্লোমা প্রদানের পরিবর্তে দৃশ্যমান দক্ষতা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপের আহ্বান জানান।
তাঁরা উল্লেখ করেন যে, একটি সফল কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (ঞঠঊঞ) ব্যবস্থার প্রকৃত মানদন্ড হলো- শিক্ষার্থীরা অর্থবহ কর্মসংস্থান লাভ করতে পারছে কি না, কর্মক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কি না, উদ্যোক্তা হতে পারছে কি না কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ চাকরির জন্য সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারছে কি না।
তাই গুণমান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ এবং ব্যবহারিক দক্ষতার আরও জোরালো মূল্যায়নকে বিশেষ মনোযোগের দাবিদার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী প্রস্তুতকরণ:
এই আলোচনায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান বিপুল সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠালেও তাদের একটি বড় অংশ তুলনামূলকভাবে কম দক্ষতা ও কম আয়ের পেশায় নিয়োজিত থাকে। তাই, বাংলাদেশকে কেবল শ্রম-রপ্তানিকারক দেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি-রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
এই লক্ষ্য অর্জনে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (ঞঠঊঞ) কর্মসূচিগুলোতে আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তা ও গন্তব্য দেশগুলোর চাহিদাকে আরও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন; যার মধ্যে রয়েছে পেশাগত দক্ষতা, বিদেশি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ।
প্রশিক্ষণ থেকে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান পর্যন্ত কার্যকর পথ বা প্রক্রিয়া তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও জোরদার সমন্বয়ের ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
টিভিইটি (ঞঠঊঞ)-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা শিক্ষা
জাতীয় সংলাপে এ বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে যে, টিভিইটি-র লক্ষ্য কেবল চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা হওয়া উচিত নয়। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার, সেবা প্রদানকারী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য উৎসাহিত ও প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
অংশগ্রহণকারীরা টিভিইটি-র সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে উদ্যোক্তা শিক্ষা, আর্থিক সাক্ষরতা, ডিজিটাল দক্ষতা, ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং অর্থায়নের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
জাতীয় সংলাপের প্রধান অগ্রাধিকার ও সুপারিশসমূহ:
আলোচনা-পর্যালোচনার ভিত্তিতে জাতীয় সংলাপ থেকে বেশ কিছু অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে:
# টিভিইটি (ঞঠঊঞ)- কে কেবল একটি গৌণ বা বিকল্প পছন্দ হিসেবে না দেখে মূলধারার জাতীয় শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা;
# কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিক সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা;
# শিল্প ও শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে টিভিইটি পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করা;
# শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া;
# শিক্ষানবিশ কর্মসূচি (ধঢ়ঢ়ৎবহঃরপবংযরঢ়), ইন্টার্নশিপ এবং কর্মক্ষেত্রে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করা;
# শুধুমাত্র সনদের ওপর গুরুত্ব না দিয়ে দক্ষতা, কর্মসংস্থানযোগ্যতা এবং উৎপাদনশীলতার ওপর মনোযোগ দেওয়া;
# শিক্ষার্থীদের উদীয়মান প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের পেশার জন্য প্রস্তুত করা;
# টিভিইটি শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থা করা;
# আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা ও পেশাগত সনদ অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারিত করা;
# উচ্চ-মূল্যের বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে লক্ষ্য করে বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা;
# কারিগরি শিক্ষার সাথে ভাষা, যোগাযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা;
# টিভিইটি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়া ও আত্মকর্মসংস্থানের মানসিকতা ও সুযোগকে উৎসাহিত করা;
# জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে সফল টিভিইটি গ্র্যাজুয়েট ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য তুলে ধরা;
# বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, শিল্পখাত এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা; এবং
# টিভিইটি-তে শিক্ষার্থী ভর্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক ফলাফলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী পরিমাপযোগ্য জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা।
জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে টিভিইটি (ঞঠঊঞ)
আলোচনায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্রমশ তার মানবসম্পদের গুণমান ও উপযোগিতার ওপর নির্ভর করবে এবং এই মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টিভিইটি- কে (ঞঠঊঞ)-অর্থাৎ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে – কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন যে, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত না হয় এবং সেই দক্ষতা যদি উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের পথ প্রশস্থ না করে, তবে বাংলাদেশ তার ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ (ফবসড়মৎধঢ়যরপ ফরারফবহফ)-এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে পারবে না।
আলোচনা থেকে উঠে আসা মূল ধারণাটিকে এভাবে সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়:
জনমিতিক লভ্যাংশ → সময়োপযোগী টিভিইটি → দক্ষতা → কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি → উৎপাদনশীলতা → অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি → জাতীয় উন্নয়ন
আলোচকরা সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দক্ষতা উন্নয়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও জোরালো সমন্বয়ের মাধ্যমে আলোচনার ফলাফলকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
‘বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরাম’ জাতীয় আলোচনা থেকে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো একত্রিত করার এবং টিভিইটি ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক ভবিষ্যৎ উদ্যোগগুলোতে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।
জাতীয় সংলাপটি এই যৌথ উপলব্ধির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে যে, টিভিইটি (ঞঠঊঞ)- কে আর কেবল উচ্চশিক্ষার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তির অভিবাসন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এটিকে একটি কৌশলগত জাতীয় হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
