নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও জ্ঞানচর্চার মানসিকতা বিকাশের লক্ষ্যে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ নীলকমল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সততা স্টোর’ ও ‘পাঠাগার’। সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক সংগঠন ‘জ্ঞানের আলো’র উদ্যোগে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সততা স্টোর ও পাঠাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, অভিভাবক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্ঞানের আলো সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তুহিনুর রহমান শাহ আলম, সংগঠনের সভাপতি মো. হৃদয় দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক আল মামুন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে শিশু- কিশোরদের বই পড়ার আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চাও অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে ‘সততা স্টোর’ এবং ‘পাঠাগার’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সততা স্টোরের বিশেষত্ব হলো, এখানে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিজেরাই সংগ্রহ করবে এবং নির্ধারিত মূল্য নির্দিষ্ট বাক্সে জমা রাখবে। কোনো বিক্রয়কর্মী ছাড়াই পরিচালিত এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
অন্যদিকে নবগঠিত পাঠাগারটি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন, সৃজনশীল চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে সহায়ক হবে। পাঠাগারে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক, গল্প, কবিতা, জীবনী ও সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক বই সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জ্ঞানের আলো সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সততা স্টোর ও পাঠাগারের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
