নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ায় অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজসচেতন মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় সচেতনতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমনই একটি উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার সামাজিক সংগঠন জ্ঞানের আলো।
সম্প্রতি সংগঠনটির উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে মাদকের ভয়াবহ ক্ষতি, সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং মাদক থেকে দূরে থাকার নানা বার্তা তুলে ধরা হয়। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের হাতে লিফলেট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সংগঠনের সদস্যরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বাড়ানো গেলে অনেক তরুণই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।
সংগঠনের এক সদস্য বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাদের সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত রাখতে সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা চাই তরুণরা বই, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকুক, মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক পথ থেকে দূরে থাকুক।
আরেক সদস্য বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু প্রশাসনের নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী বা তরুণ যদি সচেতন হয়, তাহলে একটি পরিবার এবং ধীরে ধীরে পুরো সমাজই উপকৃত হবে। সেই লক্ষ্য থেকেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।
লিফলেট গ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই কিছুটা জানতেন। তবে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম তাদের আরও সতর্ক হতে উদ্বুদ্ধ করবে। তারা নিজেরাও বন্ধুদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সচেতন ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল একটি একদিনের কর্মসূচি নয়। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের নিয়ে মাদকবিরোধী প্রচার, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক কর্মীরা মনে করেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সচেতনতা থেকেই প্রতিরোধের শুরু। আর সেই প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা অনেকটাই সহজ হবে।
