নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের জমির সীমানা নির্ধারণে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি কমিশনার (ভূমি), হাজীগঞ্জের কাছে লিখিত আবেদন করেছে আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি দেওয়া ওই আবেদনে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৯৩, ২২২, ২৯০ ও ১৯৮ নম্বর দাগের উত্তর সীমানার সঙ্গে সরকারি ১০৩ নম্বর দাগের দক্ষিণ সীমানা সঠিকভাবে চিহ্নিত করার জন্য সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ওয়াকফ এস্টেটের মোতোয়াল্লি প্রিন্স শাকিল আহমেদ স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে বলা হয়, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ ও আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেট একটি ধর্মীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখিত দাগসংলগ্ন উত্তর সীমানা এবং সরকারি সম্পত্তির ১০৩ নম্বর দাগের দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
আবেদনে ওয়াকফ এস্টেট কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করে, সরকারি সম্পত্তি ও ওয়াকফ এস্টেটের সীমানা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো বিভ্রান্তি বা বিরোধ যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য সঠিকভাবে পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ জরুরি।
এ জন্য ভূমি কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকারি সার্ভেয়ার এবং ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষ থেকে সার্ভেয়ার—উভয় পক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিমাপ শেষে সার্ভে প্রতিবেদন দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষভাবে সীমানা নির্ধারণ করা হলে জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। এ কারণে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সরেজমিন পরিমাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়াকফ এস্টেট।
আহমাদ আলী পাটওয়ারী ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠির অনুলিপি হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট অফিস নথিতে সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের জমি ও এর সীমানা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সরকারি নকশা ও রেকর্ড অনুযায়ী সীমানা চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে আবেদনটি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এখন সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ সরকারি সার্ভেয়ার নিয়োগ করে সরেজমিন পরিমাপ ও সীমানা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। সঠিক পরিমাপ ও সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হলে এ নিয়ে সম্ভাব্য বিরোধ বা ভুল–বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
