চাঁদপুরে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং : জনমনে আতঙ্ক

শরীফুল ইসলাম :
চাঁদপুর জেলা শহরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গ্যাং সদস্যরা ঘটাচ্ছে নানা অঘটন। মারামারি, ইভটিজিং ও দখলসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখী তৎপরতার পরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কিশোর অপরাধীদের। কোথাও কোন হট্টগোল কিংবা মারামারি মত ঘটনা ঘটলেই শুরু হয় অস্ত্রের মোহড়া। তাদের বেপরোয়া চলাফেরায় ভয়ে কথা বলে না সাধারণ মানুষ। জেলা শহর ছাড়িয়ে এখন বিভিন্ন উপজেলায়ও কিশোর গ্যাং দেখা যাচ্ছে।

এদিকে সন্ধ্যা নামলেই চাঁদপুর শহরের অলি-গলিতে কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয়তা বাড়ে। বিশেষ করে শহরের পাশে রেললাইনে তাদের আনাগোনা থাকে সনবচেয়ে বেশি। কিশোর বয়সি এসব যু্বকরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তাদেরকে এখন নিয়ন্ত্রন করাই চ্যালেজিং বিষয়।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাং এর সাথে জড়িত অধিকাংশ কিশোর শিক্ষার্থী। তবে তাদের সাথে কিছু কিছু কিশোর রয়েছে, তারা পড়ালেখার সাথে সম্পৃক্ততা নেই। মূলত তারা দেশীয় অস্ত্রের কাজে জড়িত। কোথাও মারামারি হলে অস্ত্রনিয়ে তারাই আগে আসে। তারা দল ভারি করতে শহরের বাইরে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিশোররাও গ্যাংয়ে যোগ দেয়।

সর্বশেষ গতকাল রোববার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার ঘটনা। শহরের ছায়াবানী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুফের সংঘর্ষ ঘটে। এতে এক পক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত ঢালীরঘাট এলাকার স্কুলছাত্র রাশেদ (১৫)। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে ধাওয়া করে সড়কে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে তার সঙ্গীয়রা তাকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কিশোর গ্যাং নিয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা হলে কোন ভাfবেই যেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না তাদের। অনেক সময় ঘটনাস্থল থেকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের আটক করলেও পরাবর্তীতে ছাড়া পেয়ে কিশোর গ্যাংয়ে যোগ দিচ্ছে। এতে করে পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে পরিবারের অভিভাবক হিসেবে মা-মার যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেই দায়িত্ব কতটুকু পালন করছেন এমটাই প্রশ্ন সচেতন মহলের।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, চাঁদপুর শহরে প্রতিদিন ৫টি মোবাইল টিম কাজ করছে। কিশোর গ্যাং নিয়ে আমাদের নজরদারি রয়েছে। প্রতিদিনি কোথাও না কোথাও থেকে কিশোর গ্যাং সদস্য আটক হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অপরাধ ও কিশোর গ্যাং নিয়ে যৌথ বাহীনির অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। আমরা কিশোর গ্যাং নিয়ে শুধু একদিন অভিযান চালাবো।

চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, চাঁদপুরে এসেই কিশোর গ্যাং বেপরোয়া চলাফেরার কথা শুনেনি। আমি বলেছি কিশোর গ্যাং নিয়ে কোন আপোষ নেই। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেছি। আর রোববার দুইজনকে আটকও করেছে। আমরা এই বিষয়ে কোন ছাড় দিব না। অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি আমরা।

শেয়ার করুন