জেনারেল হাসপাতাল ৫০০ শয্যায় উন্নীতের উদ্যোগ, ১৫ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব

আল ইমরান শোভন
চাঁদপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে হাসপাতাল-সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্যসচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সংসদীয় আসন-২৬৬, চাঁদপুর-৩-এর নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুরকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল-সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটি বর্তমানে ২৫০ শয্যার জেলা/সাধারণ হাসপাতাল হিসেবে তালিকাভুক্ত।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গেও হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। মেডিকেল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল চালু না হওয়া পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ীভাবে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে।
ফলে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলে একদিকে রোগীদের জন্য শয্যা সংকট কিছুটা কমবে, অন্যদিকে চিকিৎসা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
১৭ আগস্টের চিঠিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে বর্ণনামতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, হাসপাতাল-সংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জমিতে ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান হাসপাতাল অবকাঠামোর পাশাপাশি নতুন করে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের অবকাঠামো ও সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সরকারি নথিতেও হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের তথ্য রয়েছে।
এদিকে চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলমান থাকায় ভবিষ্যতে উন্নত চিকিৎসাসেবার চাহিদা আরও বাড়বে। মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল-সংক্রান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনাও রয়েছে।
হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরের পাশাপাশি আশপাশের জেলার মানুষেরও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে জেলা পর্যায়ের এই হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় অতিরিক্ত শয্যা ও উন্নত চিকিৎসাসেবা চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তবে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়নে ভূমি, নকশা, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থ বরাদ্দ, অনুমোদন ও দরপত্রসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আপাতত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুরের সংসদীয় আসন-৩-এর জনগণের জন্য হাসপাতালটির সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি ধাপে ধাপে ৫০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের পথ তৈরি হবে।
শেয়ার করুন