দশ হাজার শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অবসরকালীন সুবিধা দেয়া হবে : অধ্যক্ষ মোশাররফ লিটন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট চাঁদপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবর্ধনার আয়োজন করে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখা।অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন বলেন, আমি দায়িত্বে এসে আমার দপ্তর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আগে সচিবের কক্ষে কাজে গিয়ে প্রবেশ করতে পারেনি অনেকে। এখন প্রতিদিন সারাদেশ থেকে শত শত শিক্ষক দেখা করে তাদের সমস্যার বিষয়ে জানছেন এবং সমাধানের সম্ভাবনা দেখছেন।

এই সচিব বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা দেয়ার জন্য অর্থ ছিল কিন্তু তারা শিক্ষকদের অবসর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন। এসব শিক্ষকরা বছরের প র বছর হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। তারা অবসর সুবিধা বোর্ডের সফটওয়্যার ক্ষতিগ্রস্ত করে রেখে গেছেন। এখন খুবই কষ্ট করে কাজ করতে হয়। নানা সমস্যায় জড়িত এই সুবিধা বোর্ডকে টেনে তোলার চেষ্টা করছি আমরা।

অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করার উদ্যোগ নিয়েছি। যার জন্য সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে খুব শিগগিরই সারাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ১০ হাজার শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবসরকালিন সুবিধার চেক প্রদান করবো। আর তা দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে।

সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের এসব সমস্যার কথা জানেন এবং বুঝেন। যে কারণে শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা পরিশোধ করার জন্য অংশীজনদের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বাজেটেও বরাদ্দ রেখেছেন। আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমিও আপনাদের মতো একজন শিক্ষক। সকলে মিলে সহযোগিতা করলে নিশ্চয়ই আমরা শিক্ষকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করতে সক্ষম হব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট চাঁদপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক এবিএম শাহ আলম টিপু। সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, জিয়া পরিষদ জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হিল বাকি, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাফেজ আহম্মেদ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেসিন জেলা কমিটির সভাপতি এটিএম মোস্তফা হামিদী, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বাহার, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন।

আরো বক্তব্য দেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলার সাধারণ সম্পাদক সফিউল্যাহ সরকার, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আলম, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হিল শাহীন, দপ্তর সম্পাদক আফজাল হোসেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. শাহজাহান মাস্টার, মতলব উত্তর সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, দক্ষিণ সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহের হোসেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ, চাঁদপুর সদরের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, হাজীগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, গল্লাক কলেজের সহকারী অধ্যাপক খোরশেদ আলম চৌধুরী ও অবসরকালীন শিক্ষকদের পক্ষে সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম ও শিশু অধিকার চাঁদপুর এর সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান।

শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত এবং প্রয়াত শিক্ষকদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মুকবুল আহমেদ। সংবর্ধনার সূচনালগ্নে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা ও উপজেলা কমিটি এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ এবং সবশেষে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

শেয়ার করুন