বিশেষ প্রতিবেদক :
পুরো শিক্ষাজীবনে ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী। ফলাফলও ঈর্ষণীয়। বিসিএস (পুলিশ ক্যাডার) পরীক্ষার সব ধাপে উত্তীর্ণও হয়েছিলেন, কিন্তু নিজে ছাত্রদল ও পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চিত হন সরকারি চাকুরি থেকে। বিসিএস ক্যাডারবঞ্চিত সেই সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. ইয়াছিন ফরহাদ রাসেল আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। চেয়ারম্যান হয়ে ব্যাপক পরিসরে মানুষের সেবা করতে চান তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাকে। পুরো ইউনিয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, জনসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ধারাবাহিক অবদান রেখে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন/সমর্থন পেলে খুব সহজেই তিনি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলে আশা এলাকাবাসীর।
বিএনপি পরিবারের সন্তান ইয়াছিন ফরহাদ রাসেল ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। চাঁদপুর সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি। ছিলেন আশিকাটি ইউনিয়ন বিএনপি ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক। বিগত সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। আশিকাটি ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান কমিটির অন্যতম সদস্য তিনি। বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সাথে সমন্বয় করে রাজনীতি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর পিতা মো. মোখলেছুর রহমান মোল্লা বাবুরহাট বাজারের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী এবং বিএনপির একনিষ্ঠ ও বলিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পুরো এলাকায় পরিচিত। তার জেঠা আ. হামিদ মোল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ইয়াছিন ফরহাদ রাসেল মোল্লা বিগত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের ধানের শীষের পক্ষে আশিকাটি ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং টিমের টিম লিডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
আশিকাটি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় এক নাম ইয়াছিন ফরহাদ রাসেল। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আল-হিলাল ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে বিগত কয়েক বছর ধরে আশিকাটি ইউনিয়নে শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক কাজ করা হচ্ছে। দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দিয়ে তাঁদের পড়াশোনার উৎসাহ দিয়ে আসছেন। পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার, বেঞ্চ ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী দিচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্রও বিতরণ করে আসছেন কয়েক বছর ধরে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকার যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন।
এলাকার দরিদ্র ও অস্বচ্ছল মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকল্পে ধারাবাহিকভাবে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করে আসছেন তিনি। প্রায় ৬ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসাসহ বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করেছেন। মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। গরীব ও দুস্থ ১৫টি পরিবারকে আল-হিলাল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঘরের জন্য টিন প্রদান, টিউবওয়েল বিতরণসহ বহু সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে আসছেন তিনি। আল-হিলাল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্মীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি ও মসজিদের খতিব-মুসল্লীদের পবিত্র হজ্জব্রত পালনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে আশিকাটি ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রণির শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আল-হিলাল ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছেন আলোচিত সমাজসেবক ইয়াছিন ফরহাদ রাসেল। এছাড়া এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় নিজের সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়ান তিনি। দল-মত নির্বিশেষে পুরো ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
ইয়াছিন ফরহাদ রাসেল বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। এরপর চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে বিসিএস থেকে বঞ্চিত হয়ে কিছুকাল তিনি বেসরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। এরপর অধ্যাপনা ছেড়ে ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি ও সমাজসেবায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।