অপপ্রচারের ইস্যু কি ময়দান-মসজিদ, নাকি পুরোনো রাজনৈতিক চাল?

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজগাছতলা আলহাজ্ব মাওলানা মো. সালামত উল্যাহ খান (রহ.) ঈদগাহ ময়দানসংলগ্ন একটি জায়গার মালিকানা, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ এবং চলমান উন্নয়নকাজকে ঘিরে এলাকায় নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বাগাদী দরবারের পীরসাহেব পরিবার ও ঈদগাহ ময়দান সংশ্লিষ্টদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পীরজাদা মাওলানা মাহফুজ উল্যাহ খান দাবি করেন, ঈদগাহ ময়দানের পাশে কথিত জায়গাটির মূল মালিক সফিকুর রহমান শেখের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে জায়গাটি তিনি পেয়েছেন। ২০২০ সালে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে নামাজের ঘর ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সে সময় একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ করা হয় বলে তার অভিযোগ।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় ময়দানের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার বাবা একেএম নেয়ামত উল্যাহ খানকে লাঞ্ছিত করে ময়দান থেকে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি নামাজের ঘরের মাইক, টিউবওয়েল ও ইমামের সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি ঈদগাহ ময়দানের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্য, ঈদগাহ ময়দান কারও ব্যক্তিগত জায়গা দখল করে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। তাই ময়দানের জমির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা করা প্রয়োজন।
মাওলানা মাহফুজ উল্যাহ খান প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদগাহ ময়দানের নামে প্রায় এক একর ৮৭ শতাংশ জমি থাকার কথা বলা হলেও এত বছরেও ওই জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি কেন? অতীতে যারা ময়দানের কমিটির দায়িত্বে ছিলেন, তারা জমি, আয়-ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কী করেছেন—তা প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ময়দানের মিম্বার-মেহরাব ও নামাজের কাতারের অবকাঠামো ভেঙে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে বর্তমানে ঈদগাহ ময়দানে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলছে। জায়গা ভরাট, সীমানা দেয়াল নির্মাণ এবং দিঘীর অংশে গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব চলমান উন্নয়নকাজে কারা বাধা দিচ্ছে এবং দিঘী নিয়ে কেন নানা টালবাহানা করা হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মাওলানা মাহফুজ উল্যাহ খান।
তার অভিযোগ, চলমান উন্নয়ন ও জমির প্রকৃত মালিকানা-সীমানা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসায় একটি কুচক্রী মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে ঈদগাহ ময়দান ও বাগাদী দরবারের পীরসাহেব পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাংশ এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে ঈদগাহ ময়দানের জমির সঠিক পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
তবে জমির মালিকানা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, ময়দানের জমির পরিমাণ এবং অতীতে উচ্ছেদ বা চুরির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।
শেয়ার করুন