আল ইমরান শোভন >>
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সংস্কার করা হয়েছিল সড়কটি। আশা ছিল, এবার চলাচলে ভোগান্তি কমবে, টেকসই হবে যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু সেই আশা পূরণ হওয়ার আগেই দেখা দিয়েছে হতাশা। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার এক মাস পার না হতেই চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী জেলা কারাগার সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে যাচ্ছে ঢালাই। কোথাও কোথাও হাতের সামান্য চাপে ঢালাইয়ের অংশ গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের এমন অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, এত টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পরও কেন সড়কের ঢালাই এত দ্রুত নষ্ট হচ্ছে? কাজের সময় ব্যবহৃত উপকরণের মান ঠিক ছিল কি না, যথাযথভাবে ঢালাই করা হয়েছে কি না, আর তদারকিই বা কতটা হয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর চান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা কারাগার থেকে শাহতলী বাজার পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। সড়কের দুরবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংস্কারকাজ করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের আগেই বিভিন্ন স্থানে ঢালাই উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে সড়কের কয়েকটি স্থানে ঢালাই উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু অংশের ঢালাই এতটাই দুর্বল যে হাতের সামান্য চাপে তা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক ও মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি সংস্কারকাজ হওয়ায় তাঁরা স্বস্তির আশা করেছিলেন। কিন্তু কাজের মান ভালো না হওয়ায় সেই আশা পূরণ হয়নি।
যানবাহনচালক কাদের ও লিটন বলেন, অনেক দুর্ভোগের পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে সড়কটি বেশিদিন টিকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সড়ক সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যে ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়টি শুধু সাময়িক মেরামতের মাধ্যমে শেষ করা উচিত নয়। বরং কেন এমন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নির্মাণমান, ঢালাইয়ের পুরুত্ব, ব্যবহৃত উপকরণ এবং কাজের সময় তদারকির বিষয়গুলো যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সড়কের ঢালাই উঠে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ রায়হাত আমিন পাটওয়ারী বলেন, শাহতলী জেলা কারাগার সড়কে ঢালাইয়ের সময় কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে স্পিড ব্রেকার তৈরি করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনুরোধে এসব স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে সড়কের কয়েকটি স্থানে ঢালাই যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, এক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সড়কের সব স্থানই ভালো রয়েছে, তবে দুই-একটি স্থানে কিছু সমস্যা আছে। তিনি সরেজমিনে সড়ক পরিদর্শন করেছেন এবং সমস্যাগুলো সমাধান করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংস্কারকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং ঢালাই উঠে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সড়কের যেসব স্থানে সমস্যা হচ্ছে, সেসব স্থান ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু মেরামতের আশ্বাস নয়, সংস্কারকাজে কোনো অনিয়ম বা কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বা সংস্কার করা সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সেখানে কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে ঢালাই উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠলে নির্মাণমান যাচাই ও তদারকির বিষয়টি সামনে আসাই স্বাভাবিক। শাহতলী জেলা কারাগার সড়কের ক্ষেত্রেও এখন প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত অংশের যথাযথ পরীক্ষা, ত্রুটির কারণ নির্ধারণ এবং দায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর এক কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কটি যেন আবারও ভোগান্তির কারণ না হয়, সেটিই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।