নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী পদকে কেন্দ্র করে আলোচিত মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মসজিদটির বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ (৪৫) ও তাঁর বাবা সাবেক মোতাওয়াল্লী আলমগীর কবির পাটোয়ারী (৬৫) বেল বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে তাঁরা কারাগার থেকে বের হন। অন্যদিকে, মামলার বাদী মো. কবির হোসেন লিটন এখনো কারাগারে রয়েছেন।
আদালতের আদেশে পিতা-পুত্রের মুক্তির খবর শুনে মামলার বাদী কবির হোসেন লিটন আদালতকক্ষে হাততালি দেন। এ ঘটনায় আদালতকক্ষে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান তাঁকে সি.ডব্লিউ. (C.W.) মূলে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমানের আদেশে প্রিন্স শাকিল আহমেদ ও তাঁর বাবা আলমগীর কবির পাটোয়ারী বেল বন্ডে মুক্তি পান। তাঁদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিয়াদ হোসেন মুনতাছির।
পিতা-পুত্রের মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাগারের ফটকে তাঁদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মী, হাজীগঞ্জ বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ এস্টেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাঁদের ঘিরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তবে একই মামলার বাদী কারাগারে থাকায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদটি এলাকার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের একটি প্রতিষ্ঠান। এ মসজিদের মোতাওয়াল্লী পদ ঘিরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে পিতা-পুত্রের মুক্তি এবং বাদীর কারাগারে থাকার ঘটনায়।
মোতাওয়াল্লী পিতা-পুত্রের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিয়াদ হোসেন মুনতাছির বলেন, আমরা আদালতের কাছে আইনগত যুক্তি ও প্রাসঙ্গিক বিষয় তুলে ধরে তাঁদের জামিন প্রার্থনা করেছি। আদালত শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে বেল বন্ডে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আশা করি, মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমও আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।