করোনাকালে টেলি মেডিসিন সেবায় অনন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

এ পর্যন্ত সেবা পেয়েছে ৩ হাজার ৩৫৮ করোনা রোগী

শরীফুল ইসলাম :
চাঁদপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকেই সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে হাজার হাজার রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা। করোনার শুরু থেকে সোমবার (১৯ জুলাই) পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৫৮জন করোনা রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সূত্রে জানা যায়, অনলাইনে কোভিড ১৯ হেল্প লাইন গ্রæপ ও মুঠো ফোনের মাধ্যমে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত রোগী তাদের করনীয় সম্পর্কে জানেন ও সেবা গ্রহণ করছেন। আর এই সেবা কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিন।

এ কাজে ডাক্তার পলিনের সাথে সহযোগিতা করছেন ডা. জয়নাব বানু, সহকারী সর্জন ডা. লামিয়া নূর, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জান্নাতুল লুবা, ডা. মাসুদ রানা, ডা. সাগর কান্তি মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন স্বাস্থকর্মী। প্রতিদিন ৬টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ও অনলাইনে কোভিড-১৯ হেল্প লাইন গ্রæপের মাধ্যমে কার্যক্রমটি পরিচালনা হয়।

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে শুরু করে রোগীদের সুস্থতার জন্য কি করনীয় তার পরামর্শ দিয়ে আসছেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। যা একেবারেই বিনা মূল্যে করা হচ্ছে। এর জন্য ডাক্তার পলিন স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যালয়ে দ্বিতীয় তলায় একটি রুমকে কন্ট্রোল রুমে রুপান্তর করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলাসহ প্রবাসীরাওে এই সেবা গ্রহণ করে আসছেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সাজেদা বেগম পলিন বলেন, চাঁদপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পর থেকেই সদর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের টেলি মেডিসিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে এ সেবা কার্যক্রম মুঠো ফোনে করা হলে পরবর্তীতে অনলাইনে কোভিড ১৯ হেল্প লাইন গ্রæপের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়ানো হয়। এ গ্রুপের মাধ্যমে শুধু সদর উপজেলা ও পৌর এলাকার রোগীরা সেবা গ্রহণ করছেন না। জেলার বাইরের ও বিদেশে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশী নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে দিয়ে থাকি। রোগীর অক্সিজেন লেবেল কতটা কমলে হাসপতালে ভর্তি হতে হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তা না হলে অনেক রোগীই আকান্ত হওয়ার পর হাসপতালে চলে যাবে। এতে করে হাসপাতালে ভর্তি রোগির সংখ্যা বেড়ে যাবে তাতে প্রকৃত রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা টেলি মেডিসিনের এ সেবাটি একে বারেই বিনামূল্যে করে আসছি। যতদিন করোনায় সংক্রমন না কমবে, ততদিন আমাদের এ সেবা কর্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন