চাঁদপুরসহ সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরসহ দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী আজ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে একযোগে চাঁদপুরসহ দেশের ৩০০টি স্থানে ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি (জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ)।

সেদিন মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এ সিরিজ বোমা হামলায় দু’জন নিহত হন, আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত চত্বর, চাঁদপুর থানা, কালিবাড়িসহ শহরের কয়েকটি সেদিন বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল।

৬৪ জেলার মধ্যে শুধু মুন্সিগঞ্জ জেলায় কোনো বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি সেদিন। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারি-আধা-সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে বেছে সিরিজ বোমা হামলা চালায়।

হামলার জায়গাগুলোতে জেএমবির লিফলেট ছড়িয়ে দেয়। আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয় লিফলেটগুলোতে। ‘দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি।’ বিচারকদের বিশেষ বার্তা লিফলেটে লেখা ছিল এ ধরনের কথা। ইসলামী আইন বাস্তবায়ন না হলে আবারও হামলার হুমকিও দেয় জেএমবি।

এরপর একই বছরের ৩ অক্টোবর চাঁদপুরের জুনিয়র জেলা জজ দীপেন দেওয়ানকে লক্ষ্য করে আদালতে বোমা হামলার ঘটনায় হাসিম বকাউল নামের একজন বিচারপ্রার্থী নিহত হন।

সিরিজ বোমা হামলায় সারাদেশের বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। এসব মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, জাভেদ ইকবাল, আবু জহর, জাহেদুল ইসলাম সুমন, শাহাদাত হোসেন ও লাল্টুকে আসামি করা হয়।

চাঁদপুরে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল মোক্তার আহমেদ ওইদিনই সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকার সূর্য দীঘল বাড়ি থেকে, জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইকে ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার চেচুয়া বাজারের রামপুরা গ্রাম থেকে, হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার রায়ে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ, সাইফুল্লাহসহ মোট ৭জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ এদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

চাঁদপুরে সিরিজ বোমা হামলার দায়ে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোতাহির আলী ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এই রায় দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আট ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে এবং একই বছরের ৩ অক্টোবর চাঁদপুরের আদালতে বিচারককে লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা ছয়টি মামলায় এই রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, এসব মামলায় মোট ১২জন আসামির মধ্যে তিনটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় তিনজনকে। তারা হলেন আবুল কালাম আজাদ, শামীম হোসেন গালিব ও সোহরাব হোসেন বিল্লাল। একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামির নাম রহমত উল্লাহ।

খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মাহফুজ খন্দকার, মাসুম রহমান, ওসমান গনি, কামাল হোসেন, গোফরান হাজারি, আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া, রেদওয়ান হাসান ও ইসমাইল হোসেন।

এই ছয়টি মামলায় জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সংগঠনের দ্বিতীয় প্রধান ছিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই ও আতাউর রহমান সানিকেও আসামি করা হয়। ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যার মামলায় তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ফাঁসি হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন