চাঁদপুরে অঞ্জলী রানী দাস হত্যাকান্ড স্বেচ্ছায় ৫জনের আত্মসমর্পণ

ঋষিকেশ :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চাঞ্চল্যকর অঞ্জলী রানী দাস হত্যা মামলায় রহস্য উদঘাটনে হত্যকান্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ১২জনের মধ্যে সোমবার ৫জন তাদের অভিভাবকদের নিয়ে থানায় হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।

পরে পুলিশ তাদের ওই মামলায় আটক দেখিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতির আবেদন জানিয়ে একই দিন দুপুরে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করে। একইভাবে এই মামলার অন্যান্য বাকি ৭ সন্দেহভাজন আসামী নিজেরাই থানায় এসে আত্মসর্মপণ করবেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২০ সনের ২১ জুলাই রাতে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের ধোপা বাড়ি থেকে প্রয়াত ইন্দ্রজিৎ দাসের বিধবা স্ত্রী অঞ্জলী রানী দাস (৬০) এর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন নিহতের ভাই অমর কৃষ্ণ দাস বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের (নং-২৫, তাং ২২.৭.২০২০) করেন। থানা পুলিশ মামলাটি তদন্তকালে ঐ এলাকার আজাদ, রাছেল, গনি ও শাকিল নামে ৪ যুবককে আটক করে।

এরপর তাদেরকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ, ডিএনএ ও ফিঙ্গার প্রিন্ট পরীক্ষা করলেও হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাওয়া ডিএনএ-এর সাথে মিলেনি। পরে তারা ৯ মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পায়।

এরপর চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর উত্তম দাস ও আরিফ হোসেন নামে দুইজনকে আটক করে তাদেরকেও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে।

এদিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় একই এলাকার আরো বেশ কয়েকজন পুলিশের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে বলে জানতে পারে এলাকার লোকজন। পরে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সোহেল মাস্টার, বুলবুল আহমেদ, ইউপি সদস্য শাহআলম কিরণ, সাবেক ইউপি সদস্য আ: মান্নান ও স্থানীয় খাজুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ আলম থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশের সন্দেহে থাকা ১২ জনের তালিকা সংগ্রহ করে তাদের অভিভাবকদের সাথে পরামর্শ করে।

অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে ১২ জনের মধ্যে ৫ জন যথাক্রমে রেদওয়ানুল হক সজিব, ফয়সাল হোসেন সুজন, খোকন মিয়া, বাবু হোসেন ও মাসুদ আলমকে থানা পুলিশের কাছে আত্মসমার্পন করে। পরে থানা পুলিশ তাদের অঞ্জলী হত্যা মামলায় আটক দেখিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অনুমতি চেয়ে দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে।
স্থানীয় সোহেল মাস্টার, বুলবুল আহমেদসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, আমরা চাই হত্যকান্ডের মুল আসামীদের আটকসহ তাদের বিচার হউক। একই সাথে যাতে মানুষ অযথা হয়রানি না হয়, সেইজন্য আমরা অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেই। সেই অনুযায়ী সোম ৫ জন স্বেচ্ছায় আত্মসমার্পন করে।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, অঞ্জলী রানী হত্যাকান্ডে প্রাপ্ত ডিএনএর সাথে ম্যাচিং-এর জন্য আটককৃতদের ডিএনএ পরীক্ষা করাতে আদালতের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রæত ডিএনএ পরীক্ষা করে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হবো।

উল্লেখ্য, এর আগেও অঞ্জলী হত্যাকান্ডের ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই এলাকার ৪জনকে আটক করলে তাদের সাথে হত্যার ঘটনার স্থান থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ মিল না থাকায় আটককৃতরা আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।