চাঁদপুরে ইলিশ রক্ষার অভিযানে ৩১১ জেলে আটক : ২৪৮জন কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় ২৪৮জন জেলেকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদন্ড ও নিয়মিত মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

যদিও উল্লেখিত সময়ে মোট ৩১১জন জেলেকে আটক করা হয়েছিল। বাকী ৬৩জনকে বয়স বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করে ছেড়ে দিয়েছে। জেলা টাস্কফোর্স ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এসব জেলেকে আটক করা হয়।

অভয়াশ্রম এলাকার মতলব উত্তর, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় মোট মামলা হয়েছে ৭৪টি। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে উল্লেখিত তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা যায়, গত ২২ দিনে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ৬৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ২৮৫টি অভিযানে জব্দ হয় ৫ হাজার ১৯২ কেজি ইলিশ। একই সময় জব্দ করা হয় ৭ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও অন্যান্য জাল।

এদিকে গত ২২ দিনে মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নৌ-পুলিশের ১৩ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্যসহ জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। এছাড়া টাস্কফোর্সের অভিযানে অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তাগণও জেলেদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি জানান, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আমাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। তারপরও অসাধু জেলেরা ইলিশ শিকার করতে ২২ দিনে ৩১১জন আটক হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৮জনের কারাদন্ড ও নিয়মিত মামলায় কারাগারে আছে। বাকীদের কম বয়স ও অপরাধ অনুযায়ী ২ লাখ ৪ হাজার ১শ’ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি আরো জানান, মা ইলিশ নিরাপদে মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ার যে প্রচেষ্টা তাতে আমরা অনেকটা সফল। যার কারণ জেলার ৫১ হাজার জেলের মধ্যে দেড় থেকে ২ হাজার জেলে ইলিশ শিকারে লিপ্ত ছিল। বাকীদেরকে দীর্ঘদিন সচেতন করা, সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার কারণে ইলিশ শিকার থেকে বিরত রয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।