চাঁদপুরে উদ্বোধনের আগেই নদীতে বিলীনের পথে সাইক্লোন সেন্টার!

শরীফুল ইসলাম :
চাঁদপুরে অপরিকল্পিতভাবে নদীর কাছে নির্মিত একটি সাইক্লোন সেন্টার উদ্বোধনের আগেই নদীতে বিলীনের পথে রয়েছে। নদীতীর ভাঙতে ভাঙতে একেবারে সাইক্লোন সেন্টারের কাছে চলে এসেছে।

চারপাশে বর্ষার পানির কারণে দেখে মনে হয় যেন নদীতে ভেসে আছে একটি ভবন। এ অবস্থায় সরকারি বিশাল অর্থের অপচয়ের সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এর স্থান নির্বাচন করলো কারা?

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে নবনির্বিত ত্রিতল ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে ঠিকাদার। কিন্তু এটি উদ্বোধনের আগেই নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবনটি নদীতে বিলীন হলে সরকারি টাকার পুরোটাই জলে যাবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙন বেড়েছে। বিশেষ করে উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির ঢলে নদীতীরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিনভর নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা লক্ষ্য করা যায়। ফলে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ত্রিতল বিশিষ্ট নবনির্মিত রাজরাজেশ্বর ওমর আলী স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার। ঝুঁকিতে আছে আশপাশের অনেক বাড়ি-ঘর, স্থাপনা ও জমি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য পারভেজ গাজী রনি জানান, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত ৭/৮ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এবং ইউনিয়নবাসীর কথা চিন্তা করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হয়।

তিনি বলেন, ভবনের সাইড সিলেকশনের সময় নদী এখান থেকে ১৫০০ মিটার দূরে ছিল। এক মাস আগে কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। নবনির্মিত ভবনটিতে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ফনীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। তবে এটি এখনো উদ্বোধন হয়নি।

স্থানীয় লোকজন বলেন, আমরা কোন ত্রাণ চাই না। আমাদের ভিটেমাটি রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় এমপি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী জানান, উজান থেকে প্রবল বেগে পানি চাঁদপুর হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার চরাঞ্চলে মেঘনা ও পদ্মা নদীর মিলনস্থলে প্রচন্ড ঢেউ এবং ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়। এ কারণে নদী আবারো বর্ষায় ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে।

তিনি জানান, গত ১০ দিনের ভাঙনে ইউনিয়নের রাজারচর, খাসকান্দি, জাহাজমারাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুই শতাধিক বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে আরো প্রায় ৫শ’ বাড়িঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি কিছুদিন আগে লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে আবেদন জানিয়েছি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন