চাঁদপুরে করোনার ১০০ দিন : আক্রান্ত বাড়ছে, মৃত্যু কমেছে

রহিম বাদশা :
চাঁদপুর জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও লকডাউনের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে শনিবার (১৮ জুলাই)। যদিও লকডাউন এখন সীমিত পরিসরের। এই সময়ে নমুনা (স্যাম্পল) পরীক্ষা করা লোকের মধ্যে শতকরা ২৫.৪২ ভাগের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর শতকরা হার ৪.৬৬ ভাগ। এখন পর্যন্ত সুস্থতার হার ৫৫.৭৩ ভাগ। আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়লেও সম্প্রতি মৃত্যুর হার কমেছে। উপসর্গে মৃত্যুর হারও তুলনামূলক অনেক কমেছে। বেড়েছে সুস্থতার হার।

একশ’ দিনের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সময়ে চাঁদপুরে প্রতিদিন গড়ে করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৮.৫০জনের। রিপোর্ট এসেছে প্রতিদিন ৫৭.৩১জনের।

প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৪.৫৭জন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতিদিন গড় মৃত্যুর হার ০.৬৮জন। প্রতিদিন সুস্থ হয়েছেন গড়ে ৮.১২জন।

চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় করোনা টেস্টের জন্য মোট সংগৃহীত নুমনার পরিমাণ ৫৮৫০টি। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে ৫৭৩১টি।

সংগৃহীত নমুনার মধ্যে রিপোর্ট প্রাপ্তির শতকরা হার ৯৭.৯৬ ভাগ। তবে বাকী ১১৯টি রিপোর্ট মূলত গত ২ দিনে সংগৃহীত। ফলে কার্যত এখন রিপোর্ট প্রাপ্তির হার প্রায় শতভাগ। মাঝখানে রিপোর্টের জট লেগে গেলেও এখন ২/৩ দিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও চাঁদপুরে সন্দেহভাজন লোকদের নুমনা সংগ্রহ শুরু হয় ২৭ মার্চ। ওইদিন ঢাকার আইইডিসিআর থেকে বিশেষ টিম এসে চাঁদপুরের একজনের নমুনা সংগ্রহ করে।

২ এপ্রিল চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের তত্ত্বাবধানে চাঁদপুর জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। চাঁদপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৯ এপ্রিল। তার নাম মোঃ সুজন (৩২)। নারায়ণগঞ্জ ফেরত এই যুবক অসুস্থ অবস্থায় মতলব উত্তরে তার শ্বশুর বাড়িতে আসার পর ৬ এপ্রিল নমুুনা দিয়েছিলেন। চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।

প্রথম শনাক্তকৃত করোনা রোগী সুজনের নমুনা টেস্টের পজেটিভ রিপোর্ট আসার দিনেই (৯ এপ্রিল) চাঁদপুর জেলা লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। ওইদিন সন্ধ্যায় এই লকডাউন কার্যকর শুরু হয়।

সরকারের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে অনেকটা শিথিল পর্যায়ে লকডাউন এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান।

চাঁদপুরে করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১১ এপ্রিল চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা এলাকায়। তিনিও নারায়ণগঞ্জ ফেরত। শ্বশুর বাড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে। ১৫ এপ্রিল তার নমুনা টেস্টের রিপোর্ট আসে করোনা পজেটিভ।

এরপর তার শ্বশুর ও এক শ্যালিকা করোনায় আক্রান্ত হন। শ্যালিকা সুস্থ হয়েছেন। আর শ্বশুর করোনা থেকে সুস্থ হয়ে পরবর্তীতে মারা যান।

চাঁদপুরে করোনার আগমন ও সংক্রমণের বাহক হিসেবে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরত লোকদের চিহ্নিত করেছে। প্রথম পর্যায়ে বিদেশ ফেরত লোকদের সন্দেহের শীর্ষে রাখা হলেও এখন পর্যন্ত জেলায় একজন বিদেশ ফেরত লোকেরও করোনা শনাক্ত হয়নি।

চিকিৎসকদের মতে, সারা জেলায় এখন করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন চলছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। বিশেষ করে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে।

সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে চাঁদপুর প্রবাহকে জানান, জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ১৪৫৭জনের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ৫৪৮জন, ফরিদগঞ্জে ১৭৩জন, মতলব দক্ষিণে ১৬৬জন, শাহরাস্তিতে ১৪৯জন, হাজীগঞ্জে ১৪১জন, হাইমচরে ১১২জন, মতলব উত্তরে ১০৪জন ও কচুয়ায় ৬৪জন।

জেলায় মোট ৬৮জন মৃতের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ২০জন, হাজীগঞ্জে ১৭জন, ফরিদগঞ্জে ৯জন, মতলব উত্তরে ৮জন, কচুয়ায় ৫জন, শাহরাস্তিতে ৫জন, মতলব দক্ষিণে ৩জন ও হাইমচরে ১জন।

উল্লেখিত পরিসংখ্যানের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং বিদেশে চাঁদপুরের বহু লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারাও গেছেন অনেকে। বিক্ষিপ্তভাবে তাদের অনেকের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সঠিক পরিসংখ্যান এখনো সরকারি-বেসরকারি কোনো সূত্র জানাতে পারেনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন