চাঁদপুরে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ : অভিযুক্ত ধর্ষক আটক

শাওন পাটওয়ারী :
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে জাকির হোসেন বেপারী নামের এক লম্পট। ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় ধর্ষণকারীর বড় ভাই বাদশা ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার দুপুরে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষিতা উত্তর বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। বুধবার রাতে মডেল থানার এসআই নাসির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পূর্ব রঘুনাথপুর পাগল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণকারী জাকির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

জানা যায়, ওই ছাত্রীর মা কয়েক বছর আগে তার ছেলে-মেয়েকে স্বামীর কাছে রেখে চলে যায়। তার বাবা দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নারায়ণগঞ্জে কাঁচামালের ব্যবসা করেন। সেই সুযোগে স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে জাকির হোসেন বেপারি (২৬) গভীর রাতে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে কয়েক দিন ধর্ষণ করে। এই ঘটনা সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে লম্পট জাকির হোসেন ধর্ষিতা কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে।

এভাবে স্কুলছাত্রী কিশোরীকে পালাক্রমে তার ঘরে ঢুকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়। এ ঘটনা জানতে পেরে কিশোরীর বাবা নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের এসে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করে।

এ সময় ধর্ষণকারী জাকির হোসেন বিষয়টি ৪০ হাজার টাকার বিনিময় সমঝোতা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধর্ষণকারীর বড় ভাই কালিবাড়ির মোড়ের বনফুল সুইটস দোকানের মালিক বাদশা ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। দুই মাসের মধ্যে তাদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে আগুন লাগিয়ে দিবে বলে জানিয়ে আসে।

ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, বাড়িতে একা পেয়ে মেয়েকে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে।এই ঘটনা ধর্ষণকারী জাকির টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করে প্রস্তাবে রাজি না হলে তার ভাই বাদশা এসে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। আমরা এই ধর্ষণকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।

এই ঘটনা ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খানকে জানালে তিনি থানায় অভিযোগ করে ধর্ষণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দেন। থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ নির্যাতিত ধর্ষিতা কিশোরীর চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে গাইনি বিভাগে নিয়ে যান। কর্তব্যরত ডাক্তার কিশোরীর মেডিকেল চেকআপ করেছেন এবং ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন।

চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ ধর্ষণকারী জাকির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার পর তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য লম্পট জাকিরের ভাই বাদশা থানায় এসে মামলার বাদীকে চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যপারে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাসিম উদ্দিন জানান, চতুর্থ শ্রেণীর মেয়ে বয়স আনুমানিক ১২-১৩ বছর। ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে সে থানায় আসে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডাক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষিত হয়েছে বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে আসামিকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।