চাঁদপুরে বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

শরীফুল ইসলাম :
গ্রাম বাংলার পল্লী অঞ্চলে আগের মতো বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা এখন আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার সেই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখিও।

একসময় গ্রামাঞ্চলে অবাধ বিচরণ ছিল তাদের। মন মাতানো কিচিরমিচির সুরেলা শব্দ আগের মত শোনা যায় না। তেমন চোখেও পড়েনা বুদ্ধিমান বাবুই পাখি ও তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা।

এসব বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগাত এবং আত্মনির্ভশীল হতে উৎসাহ দিত। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও পরিবেশে বিপর্যয়ের কারণে পাখিটি আমরা হারাতে বসেছি।

একসময় গ্রাম-গঞ্জের তাল, নারিকেল ও খেজুর গাছে এরা বাসা বেঁধে থাকতো। প্রকৃতি থেকে তাল আর খেজুর গাছ বিলুপ্ত হওয়ায় বাবুই পাখিও হারিয়ে যেতে বসেছে।

এক সময় চাঁদপুরের গ্রামঞ্চলে বাবুই পাখি দেখা যেত। দেশি বাবুই, দাগি বাবুই ও বাংলা বাবুই। তবে বাংলা ও দাগি বাবুই এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে কিছু দেশি বাবুই দেখা যায়।

বাসা তৈরির জন্য বাবুই পাখির প্রথম পছন্দ তাল গাছ। এরপর নারিকেল, সুপারি ও খেজুর গাছ। এরা খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবন দিয়ে বাসা বাঁধে। বাসার গঠনও বেশ জটিল, তবে আকৃতি খুব সুন্দর। বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত।

চাঁদপুর সদর উপজেলা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফেজ কবিরাজ ও দুলাল মিজি জানান, এক সময় এ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়তো দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা। বর্ষা মৌসুমেও নিজ বাসায় নিরাপদে থাকে এই পাখি।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে হালকা হাওয়ায় উঁচু তালগাছে দোল খায় বাবুই পাখির বাসা। এখন গ্রামীণ পল্লীতেও হারিয়ে গেছে এসব প্রাকৃৃতিক দৃশ্য।

একদিকে বাবুই পাখি শিকার অন্যদিকে তালগাছ ও খেজুরগাছ বিলুপ্তির কারনে বিলুপ্ত হচ্ছে বাবুই পাখি। ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার এসব পুরনো রূপ বৈচিত্র্য।

তেমনি হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির শিল্পী পাখির ভোরবেলার কিচিরমিচির সুমধুর ডাকাডাকি। এ কারিগর পাখিকে বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষা করতে সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন