চাঁদপুরে মৃত অনেকে করোনার তালিকার বাইরে!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চাঁদপুরে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার উপসর্গে মৃত্যুর হার বাড়ছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে মারা যাচ্ছেন। কেউ কেউ গুরুতর অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তির পর মারা যাচ্ছেন। অথচ তাদের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে তারা করোনায় মারা গিয়েছিলেন কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

চাঁদপুর তথা দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে করোনার উপসর্গে কেউ মারা গেলেই তার নমুনা সংগ্রহ করা হতো। উপসর্গে মৃত এমন অনেকের নমুনা পরীক্ষা করে জানা গিয়েছিল তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার ব্যাপক হারে বাড়ার পর সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা আসে মৃত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা না করার।

এরপর থেকে হাসপাতালের বাইরে কেউ করোনার উপসর্গে মারা গেলে এখন আর মৃতের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। ফলে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার আর সুযোগ নেই। এতে করে কেউ করোনায় মৃত হলেও তাদের নাম বা পরিসংখ্যান করোনায় আক্রান্ত/মৃতের তালিকায় থাকছে না। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত তিন সপ্তাহে চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এমন অনেকে মারা গেছেন।

এছাড়া চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যাওয়া ব্যক্তিদেরও মৃত্যুর পূর্বে নমুনা সংগ্রহ না হয়ে থাকলে নতুন করে সংগ্রহ করা হয় না। অথচ তারা করোনার উপসর্গ নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে সকাল বা দুপুরের দিকে মৃত্যু হলে এবং মৃতের পরিবার আগ্রহী হলে মাঝেমধ্যে এমন মৃতদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। এমন কয়েকজনের করোনা পজেটিভ রিপোর্টও পাওয়া গেছে।

চাঁদপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ দিনে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে এমন ৩জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাদের কারোই নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। সর্বশেষ গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। লতিফা বেগম (১০৫) নামের ওই বৃদ্ধার বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগড়া বাজার সংলগ্ন উত্তর বালিয়া গ্রামে। করোনার উপসর্গ নিয়ে এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। নমুনা সংগ্রহ না করায় আর জানার সুযোগ হলো না তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনা।

এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও পরিবারের লোকজনের অনাগ্রহের কারণে বৃদ্ধার নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে, করোনার উপসর্গে কেউ মারা গেলে তার আর নমুনা পরীক্ষার দরকার নেই। তারপরও মাঝে মাঝে আমরা কিছু মৃতের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে থাকি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।