চাঁদপুরে হোগলা পাতায় নদী ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা!

আল ইমরান শোভন/তালহা জুবায়ের :
ভাঙনের কবলে পড়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ও পাশের আলুরবাজার ফেরিঘাট এলাকা। গত কয়েকদিনের মেঘনার ভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, ছোট একটি বাজার ও বিআইডব্লিউটিসি’র টার্মিনালের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

নতুন করে আবারও ভাঙন আতংকে রয়েছে আশপাশের কয়েকশত পরিবার। ভাঙনে ঠেকাতে স্থানীয়রা নিজেদের চেষ্টায় হোগলা পাতা দিয়ে পাড় বাঁধ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষ। গত কয়েকদিনের তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে এই এলাকার নদীপাড়ের অর্ধশত বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।

এখন ভাঙছে চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরিসার্ভিসের বিআইডব্লিউটিসির আলুরবাজার টার্মিনাল। এর মধ্যে পাশের ছোট একটি বাজারও বিলীন হয়ে গেছে। শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে হোগলা দিয়ে বাঁধ দিচ্ছেন স্থানীয়রা। এই বাঁধ তাদের কতটুকু রক্ষা করতে পারবে না, সে সম্পর্কে জানে না স্থানীয় বাসিন্দারা।

আলুরবাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গাজী। বয়স ষাট পেরিয়েছেন ইতিমধ্যে। সেই যৌবন থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এই পর্যন্ত ১২ বার স্থান পরিবর্তন করেছেন তিনি। তারপরও রাক্ষুসে ভাঙন তার পিছু ছাড়ছে না।

সাহাবুদ্দিন বলেন, নদী আমারে অনেকবার ভাঙছে। অনেকবার জায়গা বদলাইছি। অহন আবার ভাঙতাছে। কি করমু, বুঝতাছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে আছি।

তিনি জানান, তার স্ত্রী, ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে সন্তান রয়েছে। আগে নদীর পূর্ব পাড়ে ছিলেন। সেখানে কয়েকবার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। এরপর বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও নদী তার সব কেড়ে নিয়েছে।

একই এলাকার ভাঙনের শিকার মো. সানাউল্লাহ হাওলাদার বলেন, বয়স অইছে, বাবা। অনেকবার নদীভাঙনের শিকার অইছি। অহন ভাঙতাছে। বউ, পোলাপাইন নিয়া, কি কোথায় যামু? আমাগো তো জায়গা কিননের মতো পয়সা নাই।

স্থানীয় বাসিন্দা রুমা বেগম ও রহিমা বেগম জানান, কয়েকদিন যাবত মেঘনা নদীতে সব তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক বসতঘর ও জমি বিলীন হয়ে গেছে। স্বামী, সন্তান নিয়ে চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।

এলাকার অনেকে নদী ভাঙন আতংকে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ভাঙন ঠেকাতে হোগলা পাতা দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে।

নদীভাঙনের শিকার আবদুল মান্নান বেপারী বলেন, ভাঙন ঠেকাতে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। স্থায়ী কোনো ঠিকানা না থাকায় মেঘনায় ভাঙনের শিকার কয়েকশত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সফিকুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, ভাঙন রোধে শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এজন্য আশপাশের চর থেকে সংগ্রহ করা হোগলা পাতা দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বালিভর্তি বস্তা ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এসব বস্তা ফেলা হবে।

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান জানান, ২০১৬ সালে আলুরবাজার ফেরিঘাটের নৌ চ্যানেল ড্রেজিং করার পর থেকেই দক্ষিণ পাশের বিশাল এলাকাজুড়ে এই ভাঙন চলছে।

তবে বর্ষা এলে তার তীব্রতা বেড়ে যায়। গত কয়েকদিনের ভাঙনে অনেক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন নদীভাঙন আতংকে রয়েছে। ভাঙনে রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন