চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের দায়িত্ব গ্রহণ

শাওন পাটওয়ারী :
চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন বিদায়ী পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। রোববার সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র কার্যালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় রিক্সাযোগে চাঁদপুর পৌরসভায় আসেন নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল। এ সময় চাঁদপুর পৌরসভার কর্মচারী-কর্মকর্তাবৃন্দ নবনির্বাচিত মেয়রকে পৌরসভার রাস্তার দুই দিকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় চাঁদপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত সকল সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র কার্যালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রায় ১৫ বছর চাঁদপুর পৌরসভার নেতৃত্ব দিয়েছি। ১২৫ বছরের বয়স্ক চাঁদপুর পৌরসভায় অতীতে যে সকল চেয়ারম্যানদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আজকে এ প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। আমি কি উন্নয়ন করেছি তা আপনারা জানেন। তবে আমি চাঁদপুর পৌরসভার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি।

তিনি বলেন, ৮ কিলোমিটারের চাঁদপুর পৌরসভাকে ২২ কিলোমিটার করেছি। চাঁদপুর পৌরসভার এখনো অনেক কাজ বাকী আছে। চাঁদপুর পৌরসভা এখন প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এই পৌরসভাকে শীর্ষ উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। আমি আশাবাদি অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল এর নেতৃত্বে চাঁদপুর পৌরবাসীর সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে।

তিনি আরো বলেন, আমি মেয়র থাকাকালীন সময়ে পৌরবাসীর জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা রেখেছি। মানুষকে সেবা দিয়েছি। এই পৌরসভার আয় বৃদ্ধি করেছে। চাঁদপুর পৌরসভার হাতে লেনদেন বন্ধ করেছি। সকল নাগরিক সেবা ডিজিটাল করেছি।

এ সময় তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, এই পৌরসভায় একদিন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে কাজ শুরু করেছি সেই দিনটি ছিল আমার জীবনের ঐতিহাসিক দিন। আজ সেই পৌরসভা থেকে বিদায় নিচ্ছি। আপনারা সকল মিলে নতুন মেয়র জুয়েলকে সহযোগিতা করবেন।

এ সময় নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, আমি শুরুতেই স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৩ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে সে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। চাঁদপুর পৌরসভার যেসকল চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

নতুন মেয়র বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা একটি প্রতিষ্ঠান এখানে জনপ্রতিনিধিরা আসবে যাবে কিন্তু আপনারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই প্রতিষ্ঠানের থাকবেন। অতীতের জনপ্রতিনিধিরা চাঁদপুর পৌরসভার উন্নয়নের কিছু না কিছু করেছে। যার ফল চাঁদপুর পৌরসভা এখন প্রথম শ্রেণির। চাঁদপুর পৌরসভার সততা ও নিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো আপোস করা হবে না। আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নাছির ভাই চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র। এর বাইরেও তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আমাদের অভিভাবক। আমি দলের প্রতি সব সময় আস্থাশীল। চাঁদপুর পৌরসভার অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে আমি সব সময় তার সাথে পরামর্শ করবো। চাঁদপুর পৌরসভা একটি পরিবার। আমরা একটি পরিবারের সবাই আবদ্ধ হলাম। এ প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও নিয়ম-কানুনকে আমি প্রাধান্য দিবো। সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে চাঁদপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে রূপান্তরিত করবো।

আলোচনা সভায় চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার সচিব আবুল কালাম ভূইয়া, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অ্যাড. হেলাল হোসাইন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আয়েশা রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার সচিব আবুল কালাম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ এইচ এম শামসুদ্দোহা, ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল মালেক শেখ, ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল লতিফ গাজী, ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুনুর রহমান দোলন, ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোহেল রানা, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের চাঁন মিয়া মাঝি, ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইউনুছ সোয়েব, ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন বাবু পাটোয়ারী, ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান দর্জি, ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আলমগীর গাজী, ১৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. খাইরুল ইসলাম নয়ন ও ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অ্যাড. মো. কবির হোসেন চৌধুরী।

এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের ফেরদৌসী আক্তার, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের খালেদা বেগম, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের ফরিদা ইলিয়াছ ১৩, ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ডের শাহীনা বেগম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন