নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে নির্বাচনী মাঠে পুরোদমে নেমে গেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বাহারি প্রচারণার মাইকিং, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে সরগরম শহরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা। উঠোন বৈঠকের আদলে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। খন্ড খন্ড মিছিলে সরব অলিগলি। প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এভাবেই চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। পৌরবাসী এখন নির্বাচনের ভোট প্রদানের অপেক্ষায়।
একই সময়ে নির্বাচন ঠেকাতে কিছু মামলাবাজ হাইকোর্ট চষে বেড়াচ্ছে। প্রায় নিয়মিত মামলা (রিট) দায়ের করা হচ্ছে নির্বাচন ঠেকাতে। চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাইকোর্ট বেঞ্চে ৫টি রিট দায়েরের তথ্য জানা গেছে। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রিট করা হলেও রিটকারীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। যা বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন চাঁদপুরের গণমাধ্যমকর্মীরা।
সাধারণত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয় এবং রিটকারী তাতে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অবহিত করে থাকেন। কিন্তু চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একের পর এক রিটের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বাদী গণমাধ্যমের স্মরণাপন্ন হননি। মূলত নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও বিভিন্ন সূত্রে তথ্য জেনে সংবাদ প্রকাশ করতে হচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের। সর্বশেষ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আরো ২টি রিট দাখিল করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাদীর নাম জানা যায়নি।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে তৃতীয় দফা রিট (২১৫৬/২০২০) করা হয় হাইকোর্ট বেঞ্চে। ওই রিট দাখিল করেন পুরাণবাজারের পানগোলা এলাকার বাসিন্দা মালেক বেপারীর ছেলে আলী বেপারী। রিটে করোনা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। তার আগে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে দায়েরকৃত একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে আদালত খারিজ করে দেন বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।
খারিজের দিনেই (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মোঃ খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে নতুন করে আরো একটি রিট করা হয় চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়ে। পুরাণবাজার এলাকার মোঃ আবুল খায়ের মিজি নামের এক ব্যক্তি নতুন রিট দাখিল করেন। তিনি করোনা পরিস্থিতি, কথিত বন্যা ও নদী ভাঙন পরিস্থিতি এবং নিজে প্রার্থী হতে না পারার কারণ কথা উল্লেখ করে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত চেয়েছেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে চাঁদপুর পৌর নির্বাচন স্থগিত চেয়ে পৃথক রিট করা হয়। রিটকারীরা হচ্ছেন পৌরসভার জি টি রোডের বাসিন্দা মাহবুব আলম আখন্দ ও পুরানবাজার উত্তর শ্রীরামদীর বাসিন্দা মো. হাসিবুল হাসান। সেটি’ই খারিজ হয়ে যায়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর পৌর নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেদিন থেকেই প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার ভোটগ্রহণ।
চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল।