চাঁদপুর সদর হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী : তিন দিনে শতাধিক রোগী ভর্তি

কবির হোসেন মিজি :
আবহাওয়া পরির্তনের কারনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আড়াই’শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগীদের সংখ্যা। গত ৩ দিনে প্রায় শতাধিক শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। বিছানা সংকটে হিমশিম খাচ্ছে রোগী ও রোগীর লোকজনসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব রোগীদের মধ্যে ঠান্ডা জনিত শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।

সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে। বিছানা সংকটে হাসপাতালের করিডোর এবং বারান্দার মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। যেখানে শিশু ওয়র্ডে বিছানা সংকট রয়েছে সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় শতাধিক।

খবর নিয়ে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ৩ দিনে শিশু ওয়ার্ডে সর্বমোট ৮৭জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ অক্টোবর সারাদিনে সর্বমোট ৩৬জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। ৩১ অক্টোবর সারাদিন ভর্তি হয়েছে ৩২জন এবং ১ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সারাদিনে সর্বমোট ২৪জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে।

এছাড়া গত এক সপ্তাহ পূর্বে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এর চেয়ে আরো বেশি রোগী ছিল বলে জানা গেছে। তারা পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। রোববার এবং সোমবার দিনেও বেশ কিছু রোগী সুস্থ হয়ে ছুটি নিয়েছে। বর্তমানে সোমবার দিন পর্যন্ত হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে সর্বমোট ৮৭জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বিভাগে কর্তব্যরত নার্সরা। এসব শিশু শিশু রোগীদের মধ্যে এক বছর বয়সী এবং ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।

খবর নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর জেলা শহরে গত কয়েক দিনে হঠাৎ গরমের আবহাওয়া পরিবর্তনের বয়োবৃদ্ধসহ শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন দিনে হাসপাতালে প্রায় দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে রোগীদের চাপে হাসপাতালের কোথাও ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ডের সবকটি বিছানা পরিপূর্ন হয়ে মেঝেতে ও রোগীদের জন্য বিছানা পাতা হয়েছে। এসব রোগীরা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, খিচুনী এবং নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া অনেক শিশু রোগীকে অভিভাবকরা হাসপাতালে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। একই ভাবে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বয়স্ক রোগীরাও।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদদৌলা রুবেল এবং ডা. মোঃ আসিবুল আহসান চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তারা বলেন, হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে বয়োবৃদ্ধ এবং শিশুরা হঠাৎ, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। তাই গত বেশ কিছুদিন ধরো হাসপাতালে শিশু রোগীদের প্রচুর চাপ দেখা দিয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।