চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ৩৫১ করোনা রোগীর মধ্যে ২২জনের মৃত্যু

কবির হোসেন মিজি :
আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে অক্টোবর মাসে বেশ কিছু দিন করোনায় আক্রান্ত রোগী কম থাকার পর আবার বাড়তে শুরু করেছে।

প্রায় এক মাস শনাক্তের সংখ্যা অনেক কম থাকলেও বর্তমানে আবার রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে গত ৩ দিনে আক্রান্তের হার সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বাধিক। আক্রান্ত বাড়ার জন্য মাস্ক ব্যবহার না করা, জনসমাগম এরিয়ে না চলা এবং জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা।

তাই আগের তুলনায় সরকারি এ হাসপাতালটিতে এখন করোনা পরীক্ষার রোগীর সংখ্যা এবং করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আসন্ন শীত মৌসুমে পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে গত ৭ মাস ১১ দিনে করোনার উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ২শ’ ৪৫জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

এর মধ্যে ৩শ’ ৫১জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩শ’ ১জন। আর বাকী ৮৯৪জন ছিলেন করোনা আক্রান্তের বাইরে। অর্থাৎ করোনা নেগেটিভ।

উল্লেখিত সময়ে সর্বমোট ১ হাজার ২শ’ ৪৫জন রোগী ভর্তির মধ্য থেকে এ পর্যন্ত সর্বোট ৭০জন রোগী মৃত্যুবরন করেছেন। এসব মৃত রোগীর মধ্যে ২২ ছিলেন করোনায় আক্রান্ত। আর বাকি ৪৮জন মারা গেছেন শ্বাসকষ্টজনিত কারণে এবং করোনার উপসর্গে নিয়ে।

জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার করোনা আইসোলেশন ইউনিট সর্বমোট ১৬জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৬জন রোগীর করোনা পজেটিভ। বাকী ১০জনের করোনা নেগেটিভ।

গরমের রেশ কাটিয়ে ধীরে ধীরে শীতের আবহাওয়া পড়তে শুরু করেছে আর এই কারণেই চাঁদপুরে করোনার লক্ষ্মন খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত এক মাস আগে সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য যে পরিমাণ রোগী হতো এখন দিন দিন সেই সংখ্যা বেড়ে চলছে। একই সাথে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, গত এক-দেড় মাস ধরে করোনার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য যে পরিমাণ রোগী হতো বর্তমানে গত কয়েক দিন ধরে সে তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেকটা বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫জন রোগী করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে আসেন। গত ১ নভেম্বর রোববার দিন ৬৬জন রোগী নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন। এসব পরীক্ষার সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, মানুষজন নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার না করায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় এবং জনসমাগম এড়িয়ে না চলাসহ জনসচেতনতার অভাবেই করোনার লক্ষণ এখন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদেরকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।