রেড জোনের আওতায় আসছে না চাঁদপুর!

রহিম বাদশা :
রেড জোন তথা কঠোর লকডাউনের আওতাভুক্তির জন্য চাঁদপুর জেলার ৬টি পৌরসভা ও ১টি ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করা হলেও আপাতত চাঁদপুরে রেড জোন কার্যকর হচ্ছে না। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে। অথচ জনদাবি রয়েছে চাঁদপুর জেলা শহরসহ জেলার হটস্পটগুলোতে রেড জোন কার্যকরের।

সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ শনিবার রাতে চাঁদপুর প্রবাহকে জানান, আপাতত চাঁদপুর জেলার কোনো এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হচ্ছে না। রেড জোনের ক্রাইটেরিয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে আপাতত চাঁদপুরে রেড জোন কার্যকর হবে না বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে।

তিনি বলেন, চাঁদপুরে রেড জোন করতে হলে নতুন করে এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। সে ধরনের কোনো নির্দেশনা এখনো আমরা পাইনি। তাই পূর্বের প্রস্তাবিত ৬ পৌরসভা ও ১ ইউনিয়নে আপাতত রোড জোন কার্যকরের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান চাঁদপুর প্রবাহকে বলেন, রেড জোন কার্যকরের বিষয়টি সরকারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। আমার কাছে যতটুকু তথ্য আছে তাতে মনে হয় সহসা চাঁদপুরে রেড জোন কার্যকর হবে না। রেড জোনের এলাকা নির্ধারণ সিভিল সার্জনের এখতিয়ারভুক্ত বলেও জানান তিনি।

এর আগে জুনের মধ্যভাগে চাঁদপুরে রেড জোনের জন্য ৬টি পৌরসভা ও ১টি ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল জেলার স্বাস্থ্য বিভারে পক্ষ থেকে। প্রস্তাবিত পৌরসভাগুলোর মধ্যে ছিল চাঁদপুর পৌরসভা, হাজীগঞ্জ পৌরসভা, মতলব পৌরসভা, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা, শাহরাস্তি পৌরসভা ও কচুয়া পৌরসভা। প্রস্তাবিত একমাত্র ইউনিয়নটি ছিল হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়ন।

শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁদপুরে জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ১০৩৫জন। আক্রান্তদের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো- চাঁদপুর সদরে ৪১৪জন (এর মধ্যে চাঁদপুর পৌর এলাকার ৩৬৬জন) , মতলব দক্ষিণে ১১৩জন, ফরিদগঞ্জে ১১০জন, শাহরাস্তিতে ১০৪জন, হাজীগঞ্জে ১০১জন, হাইমচরে ৭৭জন, মতলব উত্তরে ৭০জন ও কচুয়ায় ৪৬জন।

জেলায় মোট ৬২জন মৃতের উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান হলো : চাঁদপুর সদরে ১৮জন, হাজীগঞ্জে ১৬জন, মতলব উত্তরে ৮জন, ফরিদগঞ্জে ৭জন, কচুয়ায় ৫জন, শাহরাস্তিতে ৪জন, মতলব দক্ষিণে ৩জন ও হাইমচরে ১জন।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল চাঁদপুরে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজেদুর রহমান খান। যা এখনো অনেকটা শিথিলভাবে চলমান। বিশেষ করে দেশব্যাপী সরকারি সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর লকডাউন এখন একেবারে ঢিলেঢালাভাবে কার্যকর হচ্ছে। সরকারের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কারণেই স্থানীয়ভাবে লকডাউন শিথিল হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন