রেড জোনে চাঁদপুর জেলার ৬ পৌরসভা ১ ইউনিয়ন

রহিম বাদশা :
রেড জোন তথা কঠোর লকডাউনের আওতাভুক্তির জন্য চাঁদপুর জেলার ৬টি পৌরসভা ও ১টি ইউনিয়নের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এই প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র আরো জানায়, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও নির্দেশনার আলোকে প্রস্তাবিত ৬টি পৌরসভা ও ১টি ইউনিয়নে একযোগে অথবা পর্যায়ক্রমে রেড জোন তথা কঠোর লকডাউন কার্যকর হতে পারে।

রেড জোনের জন্য প্রস্তাবিত পৌরসভাগুলোর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর পৌরসভা, হাজীগঞ্জ পৌরসভা, মতলব পৌরসভা, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা, শাহরাস্তি পৌরসভা ও কচুয়া পৌরসভা। প্রস্তাবিত একমাত্র ইউনিয়নটি হলো হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়ন।

সূত্র জানায়, চাঁদপুর জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম মতলব উত্তরে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও এখন জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রান্ত রোগী সেখানে। এর বাইরে জেলার প্রতিটি উপজেলা সদরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক।

এসব বিবেচনায় ৭টি উপজেলা সদরে সর্বাধিক করোনা রোগী থাকায় এবং সরকারের রেড জোনের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক রোগী থাকায় এসব এলাকা রেড জোনের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একমাত্র হাইমচরে পৌরসভা না থাকায় উপজেলা সদরের ইউনিয়নটি রেড জোনে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ ব্যাপারে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর প্রবাহকে জানান, চাঁদপুর জেলার মধ্যে চাঁদপুর শহর ও হাজীগঞ্জ শহরে করোনার সংক্রমণ এখন সর্বাধিক। এছাড়া মতলব উত্তর বাদে অন্যান্য উপজেলা সদরে করোনার সংক্রমণ রেড জোনে পড়ার মতো অবস্থানে যেয়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, আমরা জোন ভাগ করতে যেয়ে দেখলাম, শহরে ওয়ার্ড ভিত্তিক জোন করলে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে একাধিক ওয়ার্ডে যাতায়াতের একটি/একাধিক রাস্তা পড়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটি ওয়ার্ডের জন্য রাস্তা বন্ধ করলে অন্য ওয়ার্ডের যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যাবে।

তাছাড়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই আমরা পুরো পৌর এলাকাকে রেড জোন ও লকডাউনের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছি। আমরা আমাদের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। এখন মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে সেভাবেই আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।

সিভিল সার্জন আশা করেন, আগামী সপ্তাহে চাঁদপুরে রেড জোনের নির্দেশনা আসতে পারে। তিনি বলেন, রেড জোনের লকডাউন বর্তমান বা আগের লকডাউনের চেয়ে অনেক কঠোর ও কঠিন হবে। রেড জোনের লকডাউন এলাকায় সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে। সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। রাস্তা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। যানবাহন চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অনেক জরুরী পরিসেবাও বন্ধ থাকবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁদপুরে জেলায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১১জন। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ১৮২জন, শাহরাস্তিতে ৬৩জন, হাজীগঞ্জে ৬২জন, ফরিদগঞ্জে ৬০জন, মতলব দক্ষিণে ৫৬জন, হাইমচরে ৩৩জন, কচুয়ায় ২৮জন ও মতলব উত্তরে ২৭জন।

জেলায় করোনা শনাক্তকৃতদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ৪৪জন। এর মধ্যে হাজীগঞ্জে ১৩জন, চাঁদপুর সদরে ১২জন, ফরিদগঞ্জে ৬জন, কচুয়ায় ৪জন, মতলব উত্তরে ৪জন, শাহরাস্তিতে ৩জন ও মতলব দক্ষিণে ২জন।

উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল চাঁদপুরে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজেদুর রহমান খান। যা এখনো অনেকটা শিথিলভাবে চলমান। বিশেষ করে দেশব্যাপী সরকারি সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর লকডাউন এখন একেবারে ঢিলেঢালাভাবে কার্যকর হচ্ছে। সরকারের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কারণেই স্থানীয়ভাবে লকডাউন শিথিল হয়েছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন