সপ্তাহ না পেরুতেই রেল স্টেশনের নির্মাণাধীন গাইড ওয়াল ধস!

কবির হোসেন মিজি :
নির্মাণের এক সপ্তাহ না পেরুতেই চাঁদপুর অত্যাধুনিক রেলস্টেশনের গাইড ওয়াল ভেঙে পড়লো। রোববার বিকেলে চাঁদপুর শহরের রেলওয়ের নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে এ ঘটনা ঘটে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিম্নমানের ইট, বালি, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর রেলওয়ের বড়স্টেশনের নির্মাণাধীন প্লাটফর্মের পশ্চিম পাশের উত্তর অংশের প্রায় ৫০ ফুট গাইড ওয়ালের ইটের গাঁথুনি ভেঙে পড়ে যায়। স্থানীয়রা জানায়, সপ্তাহ খানেক পূর্বে নবনির্মিত প্লাটফর্মের এই গাইড ওয়ালের কাজ করা হয়েছে। অথচ এক সপ্তাহ না পেরুতেই ওই গাইড ওয়ালের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে পড়ে যায়। এর মূল কারণ হচ্ছে ইটের গাঁথুনীতে বালিতে কম সিমেন্ট ব্যবহার করা।

জানা যায়, গত ২৯ জুন চাঁদপুর রেলওয়ে সীমানা পরিদর্শককালে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন চাঁদপুরে রেলের অবকাঠামো ও রেলের সম্পত্তিতে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি বলেন, চাঁদপুরে অচিরেই অত্যাধুনিক রেলস্টেশন ও রেলের ডবল লাইন নির্মিত হবে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় দুই আড়াই মাস পূর্বে চাঁদপুর রেলওয়ের বড়স্টেশনটি অত্যাধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্যে প্লাটফর্মের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু প্লাটফর্মের সেই নবনির্মাণাধীন চলমান কাজের ১০ ইঞ্চি গাইড ওয়াল ধসে পড়ে।

চাঁদপুর বড়স্টেশন এলাকার আমির উদ্দিন মিন্টু খান, নুরু বেপারী, মোবারক গাজী, নয়ন ছৈয়াল, ইউসুফ হাওলাদারসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, গত সাত আট দিন পূর্বে চাঁদপুর রেলওয়ে বড়স্টেশনের প্লাটফর্মের তিন ফুট উচ্চতার গাইড ওয়ালটির কাজ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে গাইড ওয়ালের মাঝখানে ভরাটকৃত বালি বসার জন্য পানি দেয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো ইট, বালু, সিমেন্ট এবং বালিতে সিমেন্ট কম দেওয়ার কারণে সপ্তাহ না পেরুতেই প্ল্যাটফর্মের নবনির্মিত এই গাইড ওয়ালটি ভেঙ্গে পড়ে যায়। তাদের অভিযোগ, গাইড ওয়ালটি মাটির গভীর থেকে না উঠানোর কারণে এবং নির্মাণ সামগ্রী নি¤œমানের ও বালিতে সিমেন্ট কম দেয়ার কারনেই এমনটি ঘটেছে।

প্লাটফর্মের নবনির্মিত কাজের সাব কন্ট্রাক্টর মনা মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা ঠিকঠাক মতোই কাজ করেছি। পানির পেশারের কারণে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়েছে। ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ঠিকাদারের বক্তব্য নেয়ার জন্য নাম্বার চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হননি। তার কাছে কোন তথ্য নেই বলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সোয়াইবুল সিকদার জানান, স্টেশনের এই কাজের দায়িত্বে রয়েছে রেলওয়ের লাকসাম আইডাব্লিউ। কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এসব তথ্য আমাদের কাছে নেই। তারা কাজ সম্পন্ন করে আমাদের কাছে হ্যান্ডওভার করলে, তখন আমরা আমাদের কাজ বুঝে নিবো। এছাড়া কারা কাজ করছেন, কি করছেন সে বিষয়ে লাকসাম আইডাবিøউ বলতে পারবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।