ইজারা হয়, চালু হয় না- দুই শুল্ক কেন্দ্রে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি

আল ইমরান শোভন
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দুটি সড়কপথের শুল্ক আদায় কেন্দ্র ইজারা দেওয়া হলেও এখনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এতে একদিকে ইজারাদার ইজারা নেওয়ার পরও কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারছেন না, অন্যদিকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত কেন্দ্র দুটি চালুর উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নথি অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য হাজীগঞ্জের গন্ধর্বপুর থেকে সুইটিপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত এবং সুইটিপাড়া ব্রিজ থেকে চিতোষী … ব্রিজ পর্যন্ত দুটি শুল্ক আদায় কেন্দ্র ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে। ফলে দুটি কেন্দ্র থেকে সরকারের নির্ধারিত ইজারা রাজস্বের পরিমাণ ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক (ইজারা) স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে চাঁদপুর নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের জন্য ইজারা/লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রথম দফা টেন্ডারের মাধ্যমে দুটি শুল্ক আদায় কেন্দ্রের দর অনুমোদন করা হয়েছে।
নথিতে দেখা যায়, দুটি কেন্দ্রেরই ইজারাদার হিসেবে ইসমাইল হোসেন, পিতা আবদুল মতিন মোল্লা, গ্রাম মোহাম্মদপুর, ডাকঘর আহমদপুর, উপজেলা হাজীগঞ্জ, জেলা চাঁদপুরের নাম রয়েছে। উভয় কেন্দ্রের জন্যই তাঁর প্রস্তাবিত দর ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে অনুমোদন করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইজারাদারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইজারামূল্য/লাইসেন্স ফি, ভ্যাট, আয়কর ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২ শতাংশ জামানতের অর্থ জমা দিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ইজারা অনুমোদন ও কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও বাস্তবে কেন্দ্র দুটি চালু হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ইজারা মেয়াদের শুরু থেকে সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট সড়কপথে শুল্ক আদায়ের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোনো স্থাপনা বা আদায় কেন্দ্র ইজারা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু না হলে এর প্রভাব পড়ে সরকারি রাজস্ব আদায়ের ওপর। একই সঙ্গে সড়ক ব্যবহারকারী পরিবহন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নির্ধারিত শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কেন্দ্র দুটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।
নথিতে অনুমোদিত দুই কেন্দ্রের ইজারা মূল্য বিবেচনায় বছরে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থবছরের শুরু ১ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন পর্যন্ত প্রায় দুই মাস সময় ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। ফলে কার্যক্রম চালু না থাকলে শুধু সময়ের ব্যবধানেই উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায়ের সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ বা অকার্যকর থাকাটা কাম্য নয়। ইজারা প্রক্রিয়া শেষ হয়ে থাকলে কেন এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি, এর কারণ খুঁজে দেখা দরকার। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা স্থানীয় কোনো জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, একটি কেন্দ্রের ইজারা মূল্য ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও এর মাধ্যমে নিয়মিত শুল্ক আদায়ের সুযোগ রয়েছে। দুটি কেন্দ্র মিলে সরকারের রাজস্বের পরিমাণও কম নয়। তাই কেন্দ্র দুটির কার্যক্রম দ্রুত চালু করা গেলে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি ইজারা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও নিশ্চিত হবে।
স্থানীয়রা বিষয়টি চাঁদপুরের সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন এবং বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইজারা দেওয়ার পরও কেন নির্ধারিত সময়ে শুল্ক আদায় শুরু করা যায়নি, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রশ্ন উঠেছে, ইজারা দেওয়া এবং রাজস্ব নির্ধারণের পরও যদি কেন্দ্র চালু না হয়, তাহলে এর দায় কার? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এর সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শেয়ার করুন