নিজস্ব প্রতিবেদক
চারদিকে শুধু পানি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান। ডুবে গেছে আঙিনা, তলিয়ে গেছে রান্নাঘর। অনেক পরিবারের চুলায় কয়েক দিন ধরেই আগুন জ্বলেনি। এমন দুর্ভোগের মধ্যেই চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছায় একদল স্বেচ্ছাসেবী। তাদের হাতে ছিল চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। ত্রাণ পেয়ে স্বস্তির হাসি ফুটে বন্যাদুর্গত মানুষের মুখে।
মানবিক এই উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লিন চাঁদপুর। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সহযোগিতায় এবং ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান (আকাশ)-এর নেতৃত্বে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গম এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যায় এলাকার অনেক পরিবার কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় বাইরে থেকে সহায়তা পৌঁছানোও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ত্রাণ বিতরণে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে তাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা দুর্গম এলাকায় গিয়ে পরিবারগুলোর হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। তাদের ভাষ্য, দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ত্রাণ নিতে আসা কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বন্যার কারণে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার সংকটে পড়েছে। এমন সময়ে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। দুর্গম এলাকায় এসে তাদের খোঁজ নেওয়া এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা ক্লিন চাঁদপুরের স্বেচ্ছাসেবী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান (আকাশ) বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক দায়িত্ব। বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকি নিয়েই দুর্গম এলাকায় পৌঁছেছেন। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও এগিয়ে এলে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
দুর্যোগের সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয় না, বিপদে মানুষ একা নয়- সেই বার্তাও পৌঁছে দেয় দুর্গত জনপদের মানুষের কাছে।