নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার রাজনীতিতে ছাত্রদলের পরিচিত মুখ মো. ফয়সাল খন্দকার। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় এই ছাত্রনেতা আন্দোলন-সংগ্রাম, গ্রেপ্তার, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, রাজপথের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই তিনি আজ তৃণমূলে একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন ফয়সাল খন্দকার। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয় এবং তাকে কয়েক দফা গ্রেপ্তার হতে হয়েছে বলে সহকর্মীরা জানান। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা ও আইনি জটিলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা।
ফয়সালের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটের সময় তিনি মাঠে ছিলেন। তাদের মতে, দলীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং কর্মসূচি সফল করতে তিনি সামনের সারিতে ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপে ব্যক্তিগত ঝুঁকি থাকলেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ফয়সাল খন্দকার আহত হন। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ মতলব দক্ষিণ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন বালার নেতৃত্বে তাকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় স্থানীয় ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ওই হামলায় ফয়সালের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। এরপরও তিনি আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন বলে সহকর্মীরা জানান।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, রাজনৈতিক জীবনে মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও হামলার মতো নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ফয়সাল খন্দকার তৃণমূলের আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। তাদের ভাষায়, “ফয়সাল খন্দকার একদিনে তৈরি হননি। রাজপথে রক্ত, ঘাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন।”
তৃণমূলের একাংশের মতে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে তিনি একটি পরিচিত ও পরীক্ষিত নাম। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।
তবে সাম্প্রতিক দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে হতাশার কথাও জানিয়েছেন ফয়সাল খন্দকার। তিনি বলেন,
“রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গ্রেপ্তার, পুলিশি নির্যাতন, সংঘর্ষে আহত হওয়া, ছাত্রলীগের হামলা ও নানা জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু তখনও মানসিকভাবে এতটা কষ্ট অনুভব করিনি। এখন দল ক্ষমতায় আসার পর দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চেয়েও খারাপ সময় পার করছি।”
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন,
“ছাত্রদলের অভিভাবক, আমাদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার শেষ আশ্রয়স্থল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ, তিনি যেন তৃণমূলের বাস্তব পরিস্থিতির দিকে নজর দেন। কোনো স্বৈরাচারী মানসিকতার ব্যক্তির কাছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দায়িত্ব না দেন। মতলবে একনায়কতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।”
তবে ফয়সাল খন্দকারের উত্থাপিত অভিযোগ এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি বা ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাদের মূল্যায়ন, তৃণমূলের প্রত্যাশা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়—এসব বিষয় ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মতলব দক্ষিণের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।