হেলিকপ্টারে বর-কনে, ছেলের স্বপ্ন পূরণ করলেন বাবা

  • মমিনুল ইসলাম 
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার শান্ত-স্নিগ্ধ গ্রামগুলোতে এমন কোলাহল কোনদিন দেখা গেছে কিনা, মনে করতে পারেন না কেউ। ভোর থেকেই উত্তর ছেংগারচর এম.এম. কান্দি ও রুহিতার পাড় দুই গ্রামেই মানুষের মুখে মুখে একটাই খবর, আজ মাঠে নামবে হেলিকপ্টার!
বিয়ের কথা শুনে এলাকার মানুষের আগ্রহ ছিলই, তবে হেলিকপ্টারের কথা ছড়িয়ে পড়তেই যেন উৎসবের রঙ দ্বিগুণ হয়ে যায়। রুহিতারপার ডিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশস্ত মাঠ সকাল থেকেই ভরে ওঠে শত শত মানুষে শিশু, নারী-পুরুষ কেউ যেন জীবনের একটি বিস্ময়কর মুহূর্ত দেখার অপেক্ষায়।
ঠিক নির্দিষ্ট সময়েই আকাশে গুঞ্জরন তুলে দেখা দিল সেই প্রতীক্ষিত হেলিকপ্টারটি। মুহূর্তেই মাঠের বাতাস বদলে গেল। কেউ মোবাইল তুলে ধরল, কেউ দৌড়ে সামনে যেতে চাইলো, আর শিশুরা তো উচ্ছ্বাসে প্রায় লাফিয়ে উঠল। অবতরণের মুহূর্তে চারপাশের ধুলা উড়ে গেলেও মানুষের চোখে ছিল শুধুই বিস্ময় আর আনন্দ।
এই বিশেষ আয়োজনটি করেছিলেন হাজী আ. বারেক দেওয়ান তার প্রবাসী ছেলে মহিন উদ্দিন আহাম্মেদ (মেহেদী হাসান রাজু) এর বিয়ের দিনটিকে সত্যিই “বিশেষ” করে তুলতে।
বরের বাবা আবেগ নিয়ে বললেন, ছোটবেলায় রাজু বলত বিয়ে করব একটু অন্যভাবে। সেই স্বপ্নটাই পূরণ করলাম। আল্লাহ্ তাদের সংসারকে সুখে রাখুন।
কনের বাড়ি রুহিতার পাড়ে ততক্ষণে অপেক্ষায় ছিল সবাই। মো. আল-আমিন প্রধানের কন্যা আবিদা সুলতানা অনামিকাকে নিতে আজ যে এমন আকাশপথের আয়োজন হবে তা ভাবতেই কনের পরিবার আনন্দে আপ্লুত।
বরের ফুফাতো ভাই সুমন সরদার মুচকি হেসে বললেন, রাজু সবসময় বলত, ‘আমার বিয়ে আলাদা হবে।’ আজ সেটাই হলো। হেলিকপ্টারে করে কনে আনায় আমরা সবাই গর্বিত।
তিন দিনের এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ১৩ নভেম্বরের হলুদ, ১৪ নভেম্বরের শুভ বিবাহ ও কনের বাড়ির প্রীতিভোজ, আর ১৫ নভেম্বর বরপক্ষের বাসায় আয়োজন, সবকিছুতেই ছিল আনন্দ, সঙ্গীত আর আত্মীয়স্বজনের প্রাণখোলা অংশগ্রহণ।
গ্রামের মানুষ বলছেন, এমন বিয়ে আমরা আগে দেখিনি। অনেক দিন মনে থাকবে। আর নবদম্পতি রাজু ও অনামিকার জন্য দুই পরিবার সবার কাছে শুধু একটি অনুরোধ, তাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করবেন।
শেয়ার করুন