দুমড়ে-মুচড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও ট্রাক : আহত কমপক্ষে ১৮জন, ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
শরীফুল ইসলাম/ফয়েজ আহমেদ :
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ড্রামট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৮জন। তাদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়লে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ উদ্ধার কাজে নামে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেরকর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সড়কের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকা বাস ও ট্রাকের কারণে যান চলাচলও ব্যাহত হয়। আহতদের উদ্ধারের সময় স্বজনদের কান্না ও স্থানীয় মানুষের ভিড়ে ঘটনাস্থলে তৈরি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৩জন নিহত হন। তারা হলেন- ড্রাম ট্রাকের মালিক আব্দুল ওহাব (৪৫), আল আরাফাহ বাসের চালক কামাল হোসেন (৪০) এবং বাসের হেলপার শোভন (৩৫)। এর মধ্যে আব্দুল ওহাবের বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, কামাল হোসেনের বাড়ি গাইবান্ধায় এবং শোভনের বাড়ি বাগেরহাটে। পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী থেকে যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা আল-আরাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বানিয়াচোঁ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। মুহূর্তেই বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রাকের সামনের অংশও।
বাসের সামনের দিকে থাকা কয়েকজন যাত্রী সংঘর্ষের পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা নিজেদের উদ্যোগে আহতদের বের করার চেষ্টা শুরু করেন। পরে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কাজে যোগ দেন।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের একে একে বাস থেকে বের করে আনা হয়। গুরুতর আহতদের দ্রæত শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা আহতদের চিকিৎসা শুরু করেন।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ১৮জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৩জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ তখনও চলছিল। আহতদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার সকালটি অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। নোয়াখালী থেকে যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আল-আরাফা পরিবহনের বাসটিতে ছিলেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। তাদের অনেকেই হয়তো জানতেন না, শাহরাস্তির বানিয়াচোঁ এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের একটি সংঘর্ষ তাদের যাত্রাপথকে পরিণত করবে ভয়াবহ দুর্ঘটনায়।