আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে পাঁয়তারা চালাচ্ছে ৭১ ও ৭৫এর ঘাতকরা : শিক্ষামন্ত্রী

শরীফুল ইসলাম :
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে পায়তারা চালাচ্ছে একাত্তর পঁচাত্তরের ঘাতকরা বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ চেয়েছি, আমরা অসাম্প্রদায়িক দেশ পেয়েছি। এই জন্যই যুদ্ধ করে স্বাধীন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত করেছে। অপশক্তিরা কোন না কোন প্রমান রেখে যান, যার মাধ্যমে আমরা অপশক্তির মানুষগুলো চিনতে পারি। জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আজকে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাড়িয়েছে। তখনই একাত্তর পঁচাত্তরের ঘাতক, তারা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়। তারা সরকারের অগ্রযাত্রাতে ক্ষুন্ন করতে চায়। একাত্তর পঁচাত্তরের অপশক্তিরা এখনো তৎপর। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মৃত, এখন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় তারা।

তিনি আরো বলেন, যারা প্রতিদিন কারফিউ দিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে, তারা আজ গণতন্ত্রের কথা বলে। অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে হবে। তারা দলের মধ্যে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, সেই অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে। আমাদের অনেক কিছু করনিয় রয়েছে। আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘড় বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। সকল ধর্মের মানুষরাই সম্প্রতির কথা বলবেন, মানুষের কথা বলেবন। আমাদের পরিচয়, আমরা মানুষ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে, তাদের ঘর-বাড়ি পুড়েছে। এর কারনে আমাদের স্বাধীনতাকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা যারা বাঙালি ভাবি,যারা আওয়ামী লীগ করি, যারা নিজেকে মানুষ বলে দাবি করি, তাহলে আমাদের সবাইকে একসাথে সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। পুলিশতো একা কিছু করতে পারবে না, নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে সবার। প্রতিবেশি আরেক প্রতিবেশির দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা যদি স্বজাক থাতি, তাহলে ওই দুষ্কৃতকারীরা পার পাবে না। আমাদের সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে। দুষ্কৃতকারীরা সংর্ঘবদ্ধ হলে আমাদের সংখ্যায় কম। তাই সঠিক সময়, সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। পৃথিবীটা মানুষের হোক।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী, সাবেক মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাস নাজিম দেওয়ান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান এক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রনজিত রায় চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অজয় কুমার ভৌমিক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, তরপুরচন্ডী কাজি বাড়ি জামে মসজিদের খতিম মাওলানা মেহেদী হাসান রুহানী, চান্দ্রাবাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আলআমিন, খ্রিস্টান ধর্মের মনিদ্র বর্মন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।