এইচএসসি পাস করেই সহযোগী অধ্যাপক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুর আদর্শ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রভাষক পদ থেকে ডা. মো. আশরাফ আলীকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি এ পদোন্নতির চিঠিতে অধ্যক্ষ ও সভাপতির স্বাক্ষরও ছিল না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডা. মো. আশরাফ আলী এইচএসসি পাস, অথচ সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার কথা। ফলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই তাঁকে কীভাবে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ২০১৯ সালের একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চাঁদপুরের আদর্শ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিটি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো হয়। চিঠির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—‘ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও সভাপতির এবং অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ছাড়া প্রভাষক ডা. আশরাফ আলীকে বিধি-বহির্ভূত পদোন্নতি প্রসঙ্গে।’
চিঠিতে বলা হয়, কলেজের প্রভাষক ডা. মো. আশরাফ আলীকে পদোন্নতি দেওয়ার একটি পত্র দেওয়া হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে। কিন্তু তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো আলোচনা হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এমনকি অধ্যক্ষ ও সভাপতির কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যদি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করে থাকেন, তাহলে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে বিষয়টি এজেন্ডা আকারে উপস্থাপন করে সভাপতির পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বোর্ডে পাঠানোর কথা। অন্যথায় ইতিমধ্যে দেওয়া পদোন্নতির বিষয়টি বিধিসম্মতভাবে বিবেচনার জন্য বোর্ডের কাছে অনুরোধ জানানো হয়।
ওই চিঠির শেষাংশে বলা হয়েছে, আদর্শ কলেজের শিক্ষক ডা. মো. আশরাফ আলীর ‘সহকারী অধ্যাপক’ পদে পদোন্নতির বিষয়টি বিধিসম্মতভাবে খতিয়ে দেখে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
নথিটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিই তৎকালীন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন হিসেবে তোলা হয়েছিল। ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত, সভাপতি ও অধ্যক্ষের অনুমোদন এবং বোর্ডের বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না-এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
তবে বর্তমানে আরও বড় প্রশ্ন উঠেছে ডা. আশরাফ আলীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। অভিযোগ সত্য হলে, প্রয়োজনীয় উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়া একজন শিক্ষককে কীভাবে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া দরকার।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রশাসনিক বিধিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সেখানে কোনো শিক্ষক প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেও উচ্চতর পদে পদোন্নতি পেলে তা শুধু ব্যক্তিগত পদোন্নতির বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শিক্ষার মান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও জড়িত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. মো. আশরাফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁর পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন, অধ্যক্ষ ও সভাপতির স্বাক্ষর এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদোন্নতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। প্রয়োজন হলে সেসব নথি যাচাই করলেই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত যোগ্যতার কাগজপত্র রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন