‘একটি মা ইলিশ রক্ষা করা মানে ১২ থেকে ১৩ লাখ ইলিশ মাছ রক্ষা করা’

শরীফুল ইসলাম :
চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্সের উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নৌ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে চাঁদপুর শহরের তিন নদীর মোহনা বড়স্টেশন মোলহেডে এই অভয়াশ্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অভয়াশ্রমের ২২ দিন নদীতে কোনভাবেই জেলেদের নামতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ইলিশ রক্ষায় শুধু জেলে নয়, সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, একটি মা ইলিশ রক্ষা করা মানে ১২ থেকে ১৩ লাখ ইলিশ মাছ রক্ষা করা। তাই এই মুহূর্তে যদি আমরা একটু সচেতন হই এবং মা ইলিশ নিধন না করি তাহলে আগামীতে এর সুফল আমরা পাব এবং যাকে যাকে ইলিশ ঘাটে আসবে সেক্ষেত্রে ইলিশের দাম অনেক কমে যেতে পারে। আর দাম কমলে আমরা সকলে মিলে মিশে ইলিশ খেতে পারবো।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু নদীতে নয় স্থলভাগেও যাতে কেউ মাছ বিক্রি করতে না পারে সে জন্য কঠিন নজরদারি রাখা হবে। মাছ ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনও কঠোরভাবে দমন করা হবে।

চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, শুধু জেলে নয়, মা ইলিশ রক্ষা বাস্তবায়ন করতে আমাদের সকলের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। সরকার ঘোষিত এই নির্দেশনা যদি আমরা মেনে চলি তাহলে এর সুফল আমরা নিজেরাই ভোগ করব। নদীতে যদি কোন জেলে মাছ ধরা অবস্থায় আটক হয় তাহলে কোন জনপ্রতিনিধি যাতে তার পক্ষের সুপারিশ করতে না আসে সেজন্য সাংবাদিক ও স্থানীয় মানুষকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বেলায়েত হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার সাব-লেফটেন্যান্ট রুহান মোর্শেদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য ও সহকারী কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন